সম্পত্তি দান করার পরও আজীবন মা-বাবার তা ভোগদখল করার অধিকারের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে 'সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬'। তবে বিলটিকে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
রোববার জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করা হলে এর ভোটাভুটিতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অংশ নেননি।
বিলটির বিরোধিতা করে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি কোরআনের মূল নীতিকে রাখব নাকি বাদ দেব? আমাদের কি বাদ দেওয়ার কোনো অধিকার আছে? আমি বিশ্বাস করি, বিষয়টি খুবই সংবেদনশীল।’
পরে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এটা খুবই পরিষ্কার যে এই আইনের অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তর বা দান করা হলে কোনোভাবেই তা হেবা, অসিয়ত বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তরকে প্রভাবিত করবে না। অসহায় ও বৃদ্ধ মা-বাবার পাশে থাকার জন্যই এই আইন।’
পরে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ এই বিলের প্রস্তাবে ভোট গ্রহণ করেন। এ সময় সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এরপর 'সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬' জাতীয় সংসদে পাস হয়।
এ ছাড়া সংসদে 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬' পাস হয়েছে। বিলটি উত্থাপন করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বলেন, ‘আইনটা পড়লে দেখা যাবে, এখানে মানবাধিকার কমিশনের হাতে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া আছে। সেই ক্ষতিপূরণ যদি না দেয়, সে ক্ষেত্রেও বলা আছে 'পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্ট'-এ সেই ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে। আমরা মনে করি, এই বিলটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও পরামর্শ করে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে।’
পরে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ বিলটির ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর ভোট নেন। তবে বেশির ভাগ সংসদ সদস্য সেই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। শেষ পর্যন্ত 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬' সংসদে পাস হয়।