আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস, সম্ভাবনা থাকলেও কাটেনি সংকট

পাহাড়, সমুদ্র, নদী, হাওর নিয়ে প্রকৃতির বৈচিত্রময় সম্ভার বাংলাদেশ। তবে পাঁচ দশকের বেশি সময়েও পর্যটনে হয়নি কাঙ্ক্ষিত বিকাশ। প্রায় দেড় হাজার পর্যটন স্পট চিহ্নিতের লক্ষ্যও বাস্তবায়ন হয়নি এখনো। বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণে বড় সংকট ভিসা। এই বাস্তবতায় আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস। যার প্রতিপাদ্য ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন।

কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন। সিলেটের চা-বাগান ও টিলা আর রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানের সবুজ পাহাড়। প্রকৃতির অপরূপ রূপে অনন্য বাংলাদেশ।

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের হাতছানিতে দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে বেড়াতে আসেন পর্যটকেরা। তাদের জন্য গড়ে উঠেছে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ। পর্যটন ঘিরে পরিবহন ব্যবসাসহ এ খাতে তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থানের সুযোগও।

তবে পর্যটনের অপার সম্ভাবনার তুলনায় অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা এখনও অনেক কম। নিরাপদ যাতায়াত, মানসম্মত সেবা, পরিচ্ছন্নতা কিংবা পর্যাপ্ত বিনোদন সুবিধার ঘাটতির অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘দু-বছর থেকে ব্যবসা করছি এবং এখনো সক্রিয় আছি। ১৪ বছরে এরকম অনেক মাস্টারপ্লানের কথা শুনেছি কিন্তু দিনশেষ হয়নি। প্রগ্রেসিতেই আমার মনে হচ্ছে সংকট, যেমন–পর্যটনে বোর্ডে একজন সিইও আসেন চলে যান, আরেকজন আসেন।’

ভিশন ট্যুর বিডি এর সিইও আবু রায়হান সুমন বলেন, ‘ভারতের ভিসা অলমোস্ট নেই। ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ডুবাই বন্ধ, এরকম। আবার অন্য ভিসার ক্ষেত্রেও অনেক দেশের অনেক ধরনের রেসট্রিশন আছে। ভিসাগুলো খুব সহজে হচ্ছে না।’ 

বর্তমানে জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ২ থেকে ৩  শতাংশ। একে ৬ থেকে ৭ শতাংশে নিতে চায় সরকার। পাশাপাশি ডিসেম্বরের মধ্যেই ট্যুরিজম ঘিরে মহাপরিকল্পনা সংশোধনের কাজ চলছে। হালনাগাদ করা হয়েছে ট্যুরিজিম নীতিমালাও। 

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার বলেন, ‘২০১০ সালের নীতিমালা এটিকে আমরা ২০২৬ সালে হালনাগাদ করেছি এবং এটি এখন আমরা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জারির অপেক্ষায় রয়েছে।’

ট্যুরিজম বোর্ড বলছে, কিছুটা ইমেজ সংকটের কারণে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা কমলেও তা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে টেকসই পর্যটন উন্নয়নে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, ‘বাংলাদেশ যে অবস্থায় রয়েছে তার চেয়েও আমাদের ইমেজটি সেভাবেও নেই আসলে। সুতরাং যথাযথভাবে যদি ইমেজটাকে যদি আমরা তুলে ধরতে পারি তাদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে এবং এই জন্য আমরা প্রথমবারের মতো যারা ডিপলোমেট আছেন তাদের আমরা এর সাথে যুক্ত করছি।’
 
পর্যটন দিবস ঘিরে সপ্তাহব্যাপী মেলার পাশাপাশি, প্রথমবার ১৩ টি ক্যাটাগরিতে দেয়া হচ্ছে পুরস্কার।