ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একের পর এক আগুনে বাড়ছে প্রাণহানির ঝুঁকি

ফায়ার কোড না মেনে কারখানা গড়ে তোলার কারণে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় একের পর এক আগুনে বাড়ছে প্রাণহানির ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে,  নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি আর আইন প্রয়োগে শিথিলতায় বাড়ছে বিপদ। নিমতলী ও চুড়িহাট্টার ভয়াবহ ট্র্যাজেডির পরও বদলায়নি পরিস্থিতি। সবশেষ টঙ্গীর চেরাগ আলীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের আগুন আবারও সামনে এনেছে পুরোনো প্রশ্ন, আর কত প্রাণহানির পর টনক নড়বে কর্তৃপক্ষের?  
 
ঘনবসতিপূর্ণ কিংবা শিল্প এলাকা। বারবার আগুন লাগার ঘটনা বাড়াচ্ছে উদ্বেগ, ঝুঁকিতে নিরাপত্তা। 

হাজারেরও বেশি ছোট-বড় ক্যামিকেল গোডাউনের ওপর দাঁড়িয়েই প্রতিনিয়ত যেন মৃত্যুর হুমকি নিয়ে বসবাস করছেন পুরোনো ঢাকার বাসিন্দারা। ২০১০ সালে নিমতলী ট্র্যাজেডি অথবা ২০১৯ সালে চুড়িহাট্টায় স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই অসংখ্য তাজা প্রাণ। সবশেষ ১২ অক্টোবর চকবাজারের মনজুর খান প্লাজার একটি দোকানে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে ১২ ঘণ্টা। 

এর রেশ না কাটতেই টঙ্গীর চেরাগ আলীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। সরু গলির বাধা ও রাসায়নিকের গোডাউনে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় বিপদ বড় হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

ফায়ার সার্ভিসের সাবেক পরিচালক মেজর (অব.) এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, ‘এখানে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়কে হস্তক্ষেপ (কনসিডার) করতে হবে। অবশ্যই অবশ্যই করতে হবে। আমাক অবাক হয়ে গেছি, এত বড় একটা ফ্যক্টরিতে পানির অভাব হয় কেন? তাহলে তার কী অগ্নিনিরাপত্তা রয়েছে? এখানে কেমনে সিটি কর্পোরেশন লাইসেন্স দিল? ডিসি অফিস কেমনে লাইসেন্স দিল? এখানে ফায়ার সার্ভিস কেমনে লাইসেন্স দিল?’

ফায়ার সার্ভিস জানায়, চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় রাসায়নিকের দোকান বা গুদাম নিষিদ্ধ করা হয়নি। পাশাপাশি  ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কারখানার করার প্রবণতাকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।   

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক ব্রি. জেনারেল (অব.) আলী আহমদ খান বলেন, ‘আগুন লাগার ঘটনা ঘটলে রক্ষা পেতে ফ্যাক্টরি এমনভাবে করতে হবে যেন ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যেতে পারে। সেখানে জরুরিক্ষেত্রে বাইরে থেকে ফায়ার ইকুয়েপমেন্ট সেট করার পজিশন থাকতে হবে। এসব ক্ষেত্রে যেকোনো ফ্যাক্টরিতে নিজস্ব ফায়ার সেফটি থাকতে হবে।’ 

আগুনের ঝুঁকি কমাতে রাজউক, সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসা, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাড়িওয়ালাদের সমন্বিত উদ্যোগ এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।