জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের জন্য ইসিতে আটকে আছে প্রায় দেড় লাখ আবেদন। বছরের পর বছর ঘুরেও সুরাহা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, আটকে থাকা আবেদনগুলোর অধিকাংশের নেই পর্যাপ্ত নথি।
এছাড়া, ব্যক্তিগত তথ্যে বড় অসঙ্গতি থাকা দাবিগুলো মানা সম্ভব নয়, বলছেন ইসি সচিব। জানান, নাগরিকদের তথ্য ফ্যামিলি ট্রি পদ্ধতিতে থাকলে অসঙ্গতি দূর হবে।
গাজীপুরের মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন। মায়ের এনআইডি সংশোধনে ৬ মাস ধরে ঘুরছেন। তার দাবি, মায়ের নাম সুফিয়া বেগম হলেও এনআইডিতে ভুলে এসেছে নাসরীন। নানার নাম ফটু শেখের জায়গায় এসেছে মাহবুবুর রহমান। বয়সেও রয়েছে অসঙ্গতি।
মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন, তারা বলছে মেসেজ যাবে। ছয়মাস হয়ে গেল আসেনি। এটা তো ভোগান্তি। বাবা সরকারি চাকরি করতো। পেনশনের জন্য ১৪ বছর ধরে ঘুরছি।
আরেক ভুক্তভোগী ঢাকার মহাখালীর মেহরান আহমেদ। এনআইডি থেকে বাবা-মায়ের ডাক নাম বাদ দিতে চান। ৩ বার আবেদনে সময় পার হয়েছে দেড় বছর। মেহরান আহমেদ বলেন, আমার কথা কেউ শুনবে, এই সময়ও কর্তৃপক্ষের নেই। খুবই সমস্যায় আছি, সমাধান পাচ্ছি না।
ইসি বলছে, পর্যাপ্ত নথির অভাবেই আটকে আছে শাহাবুদ্দিন-মেহরানের আবেদন। তথ্য বলছে, বর্তমানে ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪৭ জনের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। যাদের মধ্যে ঘ-ক্যাটাগরি, নাম ও বয়সের আমূল সংশোধনের আবেদনই বেশি, ৭৫ হাজার ৪২৬ জনের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এনআইডিতে ভুলের ক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতার বিকল্প নেই। শিশুদের জন্মনিবন্ধনে বাবা-মার এনআইডি নম্বর যুক্ত হলে সংকট অনেকাংশেই কমবে।
সাবেক অতিরিক্ত সচিব আ ক ম সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শিশুদের জন্মনিবন্ধনের সময় অভিভাবকের এনআইডি নম্বর দিতে হবে। এতে সমস্যা সমাধান হতে পারে।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, নাগরিকদের ডাটা ফ্যামিলি ট্রি পদ্ধতিতে থাকলে অনেক অসঙ্গতি দূর হবে। তবে, এনআইডিতে তথ্যের পুরোপুরি পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়।
আখতার আহমেদ বলেন, ফ্যামিলি ট্রি শুরু করা গেলে ভবিষ্যতের অনেক অসঙ্গতি দূর করা যাবে।
এনআইডি সেবা দ্রুত দিতে ২০২০ সাল থেকে শুরু হয় অনলাইন কার্যক্রম। ভোগান্তি কমাতে আমূল সংশোধনের আবেদন বাদে ক, খ ও গ ক্যাটাগরির সংশোধন মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারাই নিষ্পত্তি করছেন।
এনআইডি সেবার ক্ষেত্রে সবচেয়ে জটিল ব্যক্তির তথ্যের আমূল সংশোধন। ঝুলে থাকা আবেদনের বেশিরভাগই এই ক্যাটাগরির। বাড়তি ভোগান্তি যোগ করেছে ত্রুটিপূর্ণ আবেদন। সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তি নির্ভর নতুন পদ্ধতি চালুর আশ্বাস দিয়েছে ইসি।