বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সম্প্রতি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের সাউথ এশিয়া সেন্টার আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন বলেছেন, সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মকে রাজনীতির বাইরে রাখার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে মতাদর্শ, তা এখনো সারা বিশ্বের জন্য প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
অসাম্প্রদায়িক চেতনায় স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ্ব রাজনীতিতে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। এমনটাই মনে করেন রাজনীতিক, অর্থনীতিবিদ ও ইতিহাসবিদরা।
বেঁচে থাকলে আজ তাকে নিয়েই বাঙালি উদযাপন করত তার ১০১তম জন্মবার্ষিকী। আর ঠিক এর নয় দিন পর তার হাতেই উড়ত স্বাধীন বাংলার সুবর্ণজয়ন্তীর পতাকা।
বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবনের বহুমাত্রিকতা নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে অমর্ত্য সেনের বক্তব্যের রেশ ধরে অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান বলেন, শেখ মুজিব বাঙালির সর্বকালের ইতিহাসের প্রধান পুরুষ।
বঙ্গবন্ধুর নিবিড় সাহচার্য পাওয়া বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য মনে করেন, বঙ্গবন্ধুর মতো এতো বড় ক্যানভাসের ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশে আর কখনো আসবে না।
জাতীয়তাবাদী চেতনায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে জনযুদ্ধের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা বঙ্গবন্ধুকে যে বৈশ্বিক সম্মান এনে দিয়েছিলো তা বাংলার ও বাঙালির জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ-বলছেন ইতিহাসবিদ।
গবেষকরা মনে করেন, বঙ্গবন্ধু আর দশ বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার গুরুত্ব আরও অনেক বাড়াতে পারতো বেশ আগেই।
তারা বলছেন, ভারত ভাগের পর পূর্ব বাংলায় জাতীয়তাবাদী চেতনার জোয়ারের প্রধান পুরুষ বঙ্গবন্ধু। নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে ঈর্ষণীয় ভূমিকার জন্য বিশ্ব নেতাদের স্বীকৃতি-সম্মান পেয়েছেন পোয়েট অব পলিটিক্স খ্যাত সর্বকালের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালি।
সেই শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী আজ বুধবার, যার হাত ধরে এসেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, দেশের মানুষ ভালোবেসে যাকে দিয়েছে বঙ্গবন্ধু উপাধি। স্বাধীন দেশের সংবিধান যাকে দিয়েছে জাতির পিতার স্বীকৃতি।
জন্মদিন নিয়ে বিশেষ কোনো ভাবনা ছিল না বঙ্গবন্ধুর। তিনি বলতেন, 'আমার জন্মদিনই কী, আর মৃত্যুদিনই কী? আমার জনগণের জন্য আমার জীবন ও মৃত্যু। আমি তো আমার জীবন জনগণের জন্য উৎসর্গ করেছি।'
তার হাত ধরেই বাঙালি পেয়েছিল স্বাধীনতার দিশা; অর্ধ শতকের পথচলায় অর্থনৈতিক মুক্তির যে সোনালি দিগন্তের সামনে আজ বাঙালি দাঁড়িয়ে, তারও অনুপ্রেরণা তিনি।
মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যে ১০ দিনের কর্মসূচি নিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। এরমধ্যে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের থিম ‘ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময় '।
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়। এই দিনে স্কুল-কলেজে শিশুদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়, কিন্তু মহামারীর কারণে এবার আর হচ্ছে না।
এবারের জাতীয় শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ঠিক হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুর হৃদয় হোক রঙিন’।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এক বাণীতে বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করাই হোক মুজিববর্ষে সকলের অঙ্গীকার। তার নীতি ও আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়ুক, গড়ে উঠুক সাহসী, ত্যাগী ও আদর্শবাদী নেতৃত্ব- এ প্রত্যাশা করি।'
গতবছরও সাড়ম্বরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছিল সরকার। কিন্তু করোনাভাইরাসের মহামারীতে স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে মূল আয়োজন সীমিত করা হয়েছিলো। তবে, এ বছর করোনা থাকলেও সকল স্বাস্থ্য বিধি মেনেই পালন করা হবে মহান এ নেতার জন্মশতবার্ষিকী।
/জে পি/