একদিন বিরতি দিয়ে আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার আবারও অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। সোমবার দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। বুধবার ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত এ অবরোধ চলবে।
রিজভী বলেন, ‘সারাদেশে নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার, বাড়ি বাড়ি তল্লাশী ও নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ৮ ও ৯ নভেম্বর অর্থাৎ বুধ ও বৃহস্পতিবার … বুধবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত অর্থাৎ ৪৮ ঘন্টার অবরোধ কর্মসূচি বিএনপির পক্ষ থেকে আমি ঘোষণা করছি। এই কর্মসূচি হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি।’
দলটির চলমান ৪৮ ঘন্টা অবরোধ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিএনপিসহ সকল সমমনা জোট ও দলের নেতা-কর্মীদেরকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিনন্দন জানিয়েছেন বলেও জানান রিজভী।
গত ২৮ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা ও সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ ডাকে বিএনপি। সমাবেশ শুরুর আগেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় দলটির নেতা–কর্মীরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ বিএনপি কর্মীরা কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও জাজেস কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালেও।
বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। আহত হন প্রায় অর্ধশত। এ সময় সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপরও হামলা করা হয়। ভাংচুর করা হয় গণমাধ্যমের কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল।
ওই দিন সন্ধ্যায় রোববার সারা দেশে সকাল–সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। হরতালের মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতা–কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরে ৩১ অক্টোবর থেকে টানা তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। তাদের কর্মসূচির সাথে মিল রেখে জামায়াতে ইসলামীও তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
তাদের এ অবরোধের শেষদিন গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নতুন করে রোববার ও সোমবার অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। প্রতিবারের মতো এবারও এই অবরোধে নিজেদের সমর্থন জানিয়ে একই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় জামায়াতে ইসলামী।
দ্বিতীয় দফা অবরোধে গত দুই দিন রাজধানীসহ সারাদেশে ২০টিরও বেশি যানবাহনে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। বিএনপি–জামায়াতের প্রথম দফা অবরোধের সময়েও ৩ দিনে রাজধানীতে ১২টি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছিল।
এসব ঘটনায় উসকানি, নাশকতা ও আগুন দেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কজন নেতাকে।