দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ঢাকা ১৩: এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবে কে?

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরে বাংলা নগরের একাংশ নিয়ে ঢাকা ১৩। উত্তর সিটির সাতটি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে এ আসনে আছে নানা বৈচিত্র। বাঙালির পাশাপাশি অবাঙালি বিহারী ভোটাররাও ফ্যাক্টর। আছে শিয়া সম্প্রদায়, হিন্দু ও খ্রিস্টান ভোটার। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। 

মনোনয়ন চান মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা শেখ বজলুর রহমানও। তবে চাপে আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সাদেক খান। এদিকে, জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম সেন্টুও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ২০০৮ থেকে ১৮ পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০১৮ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়ী হন তৎকালীন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান। 

এ সংসদ সদস্য জানান, মনোনয়ন পাওয়া ও জয় নিয়ে তিনি শতভাগ আশাবাদী। এলাকায় উন্নয়ন ও জনগণের খেদমত করেছেন। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি প্রতিরোধের চেষ্ঠাও করেছেন বলে জানান সাংসদ সাদেক খান।

তবে, এ আসনে উন্নয়নের নিজস্ব পরিকল্পনার কথা জানান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেন, ‘খুব ইচ্ছা ছিলো বছিলা নদীকে একটা ওয়াটার পার্ক করা। এই এলাকাটা একটা শান্তিময় করে গড়ে তোলার একটা দৃঢ় ইচ্ছা আছে। মাননীয় নেত্রী যদি মনোনয়ন দেই আর জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে এই মোহাম্মদপুর এলাকাটা মনের মাধুরী দিয়ে সাজাবো।’  

এদিকে নৌকার আরেক কাণ্ডারি হতে চান মোহাম্মদপুরের স্থায়ী বাসিন্দা এবং দলের ত্যাগী নেতা ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান বলেন, ‘আমার এই অঞ্চলে নানক ভাই আসুক আর সাদেক ভাই আসুক, যেই ভাই আসুক নেত্রী যাকে নৌকা দিবে তার পক্ষে যেনো সবাই থাকে। বিভক্তি যেনো না আসে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টানা দুবার জাতীয় পার্টি থেকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হন শফিকুল ইসলাম সেন্টু। এই জনপ্রিয়তাকে পূঁজি করেই ভোটের মাঠে বাজিমাত করতে চান তিনি।

শফিকুল ইসলাম সেন্টু জানান, করোনার সময় তিনি সব সময় কাজ করেছেন মাঠে। মানুষের সেবাই কাজ করেছি। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে আশা করি আমি নির্বাচিত হবো। 

এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে সাদেক খানের বিপক্ষে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুস সালাম। বিএনপি অংশ নিলে এবারও লড়তে পারেন তিনি।

প্রায় চার লাখ ভোটার ও ২০ লাখ মানুষের বসবাস এখানে। এলাকার কিছু অংশ অভিজাত। আবার কিছুটা নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস আছে। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটিতে জয় নিশ্চিত করতে চায় আওয়ামী লীগ। বিএনপিও হাতছাড়া করতে চায় না।