প্রয়োজনে জোটকে আসন ‘ছাড়বে’ আওয়ামী লীগ

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও প্রয়োজনে জোট সঙ্গীদের ছাড় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ওবায়দুল কাদের।

কাদের বলেন, ‘১৪ দলের মধ্যে যারা ইলেক্টেবল, নির্বাচনে জেতার মতো তাদের অবশ্যই (আসন) দেব। আর তাদের সাথে আমাদের অ্যালায়েন্স আছে, এটা তো আমরা অস্বীকার করছি না। কারা আসে এর মধ্যে সবকিছু দেখে আমরা আমাদের কৌশল নির্ধারণ করব।’

গত রোববার ২৯৮টি আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগ। কুষ্টিয়া–২ ও নারায়ণগঞ্জ–৫ আসনে কোনো প্রার্থী দেওয়া হয়নি। সে সময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন, পরে এই দুটো আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

গত বেশ কয়েকটি নির্বাচনের আগে জোটের শরিকদের জন্য আসন রেখেই প্রার্থী চূড়ান্ত করেছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু এবার প্রায় সব আসনে প্রার্থী দেওয়ায় স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, আওয়ামী লীগ কি তবে জোটবদ্ধ নির্বাচনে যাবে না? 

অবশ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, জাতীয় পার্টি (জেপি), সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), তরিকত ফেডারেশনসহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে জোট করার কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন এ জোট ১৪ দলীয় জোট বলে পরিচিত।

বর্তমানে ভোটের মাঠে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো জোট বলা যেতে পারে ১৪ দলীয় জোটকে। বিএনপি-জামায়াতকে প্রতিহত করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কয়েকটি রাজনৈতিক দল নিয়ে ২০০৪ সালে গঠিত হয় রাজনৈতিক জোট কেন্দ্রীয় ১৪ দল। জোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগ। শুরু থেকেই এই জোটের সমন্বয়ক ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা মোহাম্মদ নাসিম। তাঁর মৃত্যুর পর এ দায়িত্ব পান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু।

মূলত তিনটি বিষয় মাথায় রেখে গঠন হয় ১৪ দল। এগুলো হলো—জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান; উন্নয়নমূলক কাজের ভিশন এবং সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান।

২০০৯ সালে এক–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর জোট মহাজোট ক্ষমতায় আসে। এ সময় ১৪ দলের শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতা মন্ত্রিসভায়ও স্থান পান। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও এ ধারা অব্যাহত ছিল। টানা দুই মেয়াদে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শরিক দলের কোনো নেতাই মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। একাদশ সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ১৭৫ জন। জোট শরিকদের মধ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ৭ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) ৬ জন, তরীকত ফেডারেশনের ২ জন, জাতীয় পার্টির (জেপি) ২ জন এবং বিএনএফের আছেন ১ জন সংসদ সদস্য।

এ নিয়ে জোটনেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের মতবিরোধ তৈরি হয়। জোটের অনেক নেতাই প্রকাশ্যে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনাও করেন। অবশ্য বরফ গলতেও সময় লাগেনি। গত জুলাইয়ে জোটনেতারা আবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেন। আগের মতো এবারও আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতারা।

বিএনপি নির্বাচনে এলে আওয়ামী লীগ তাদের স্বাগত জানাবে বলেও মন্তব্য করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে কারা আসে তা দেখে নিজেদের কৌশল প্রয়োগ করব। বিএনপি নির্বাচনে এলে তাদের স্বাগত জানাবে আওয়ামী লীগ, তবে তাদের নির্বাচনে আনার দলীয় কোনো কৌশল নেই।’

আওয়ামী লীগ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বদ্ধপরিকর জানিয়ে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘণ না করতে নেতা–কর্মীদের সতর্ক করে দেন দলের সাধারণ সম্পাদক।

গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সিইসি জানান, ভোট হবে আগামী ৭ জানুয়ারি।

তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর আর প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। প্রচার শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে, চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত।