দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দেওয়া বিরোধীদের আস্ফালন এখন কোথায় বলে প্রশ্ন রেখেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেছেন তিনি।
বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে চরম হতাশাগ্রস্তদের শিবিরে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘তাদের (বিএনপি) ঘরে গণতন্ত্র চর্চা করে না। তারা দেশে কিভাবে গণতন্ত্র চর্চা করবে? নিজেরাই অফিসে তালা লাগিয়েছে, আবার ভেঙেছে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনগণ ভোট দিয়েছে, অথচ তারা (বিরোধীরা) ভোটের দিন জনগণকে নিবৃত্ত করতে চেয়েছিল। নির্বাচনের বিরুদ্ধে বলার মতো কিছু ছিল না। বৈশ্বিকভাবে এটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।’
সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচন হয়েছে। বিরোধী দলের নির্বাচন বয়কটের কারণে আমাদের নতুন রণকৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে। তাই স্বতন্ত্র বড় অংশ সংসদে। ৪২ দশমিক ৮ ভাগ ভোট পড়েছে। জনগণের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে। তাই নির্বাচনের সোনালি ফসল ঘরে তুলেছি। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এটা। নির্বাচন যারা বয়কট করেছে, তারা অনেক কথা এখন বলছে। প্রতিহত করবে, হতে দেবে না– বিরোধীদের আস্ফালন এখন কোথায়।’
‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সুন্দর নির্বাচন হয়েছে– সারা দুনিয়া বলছে। অথচ একটি মহল বলছে, এই সংসদ অবৈধ। তারা নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে চাচ্ছে।’ যোগ করেন ওবায়দুল কাদের।
এই নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে কৃতিত্ব দিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ভালো নির্বাচন করার প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেছেন শেখ হাসিনা। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে এটা হয়েছে। কমিশন কতটা স্বাধীন ছিল আপনারা দেখেছেন। কিছু কিছু প্রার্থীকে ডেকে এনে ভর্ৎসনা করেছে এটা উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হয়েছে। শপথের পর আগের সংসদ বিলুপ্ত হয়েছে। আলাদাভাবে বিলুপ্তির প্রয়োজন নেই।’
টিআইবির এক মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এটা পাতানো নির্বাচন ছিল না। বিভিন্ন দেশ বলেছে মোটামুটি সুষ্ঠু হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসও অভিনন্দন জানিয়েছে, এখন কি বলবেন? ধৈর্য ধরুন পাঁচ বছর অপেক্ষা করুন।’