স্বজনদের প্রার্থী করছেন আ.লীগের এমপি-মন্ত্রীরা, দলের হুঁশিয়ারি

নির্দেশনা অমান্য করে উপজেলা নির্বাচনে পরিবারের সদস্যদের প্রার্থী করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীরা। এ তালিকায় আছে তাঁদের স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে থেকে শুরু করে ভাই, ভাতিজা, শ্যালকের নাম। অথচ এবারের উপজেলা নির্বাচন অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক করতে দলীয় প্রতীকে ভোটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে দল। দল থেকে বলা হচ্ছে, আগে ছাড় দেওয়া হলেও এবার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী-এমপিদের উপজেলা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার না করতে।

এরপরও চলছে উপজেলা নির্বাচনে এমপি-মন্ত্রীদের প্রভাব বিস্তার।

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে খালাতো ভাই হারুনার রশীদ হীরাকে আবারও প্রার্থী ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ সদস্য আবদুর রাজ্জাক। এর প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে দলের একাংশ।

মাদারীপুর সদরে ছেলেকে প্রার্থী করেছেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান। নাটোরের সিংড়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী লুৎফুল হাবিব রুবেল আইসিটি প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য জুনাইদ আহমেদ পলকের শ্যালক। নারায়ণগঞ্জ-১-এর সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী প্রার্থী করেছেন ছেলে গাজী গোলাম মর্তুজা পাপ্পাকে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের অভিযোগ পুরো এলাকাকে নিজের বলয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন দস্তগীর গাজী।

এছাড়া বগুড়া, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, নরসিংদী, কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ, পিরোজপুরসহ অন্তত ২০ জেলার নানা উপজেলায় প্রার্থী হচ্ছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যের নিকট আত্মীয়রা। 

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘সংকীর্ণ পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে যেয়ে অনেকেই রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাবেন। পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ফলাফল কখনই বৃহত্তর আঙ্গিকে ভালো হয় না।’

এর আগের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে দাঁড়ালে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ক্ষমা করেছে দল। তবে এবার তৃণমূলের বিরোধ ঠেকাতে দেওয়া হচ্ছে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি।

ভিডিও দেখুন:দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সবাইকেই আমরা মাফ করে দিয়েছি। এখন যেহেতু নির্বাচন নেই সেহেতু আমরা কঠোর হয়েই দলের শৃঙ্খলা-ঐক্যকে জোরদার করব।

নাছিম বলেন, ‘পরিবার-পরিজন ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজের বলয়কে শক্তিশালী করার পাঁয়তারা করা হলে আওয়ামী লীগ তা নজরদারির ভেতরে নেবে।’

প্রথম ধাপে ১৫২ উপজেলা পরিষদে ৮ মে এবং দ্বিতীয় ধাপে ১৬১টি উপজেলায় ২১ মে ভোট নেবে নির্বাচন কমিশন। তবে এবারের নির্বাচনেও আসছে না বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি।