সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে: আমির খসরু

অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার বিকেলে নোয়াখালীতে জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

দ্রব্যমূল্যে নিয়ন্ত্রণ, আইন–শৃঙ্খলার উন্নয়ন ও দ্রুততম সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। 

সমাবেশে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে, তারা যেন কোনোদিকে ঝুঁকে যাচ্ছে। সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে দেখা দেওয়া সন্দেহ সত্য হলে গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। আর গ্রহণযোগ্যতা হারালে বর্তমান সরকারকেও শেখ হাসিনার মতো পরিণতি বরণ করতে হবে।’

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের উদ্দেশ্য করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'জনমনে যে সন্দেহ শুরু হয়েছে, আপনাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে সেটা আপনাদের ভেবে দেখতে হবে। আপনাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে মানুষের মনে কিন্তু সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। আপনাদের কথাবার্তায়, আপনাদের উপদেষ্টাদের কথাবার্তায়, তাদের সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্টিংয়ের কথাবার্তায় মনে হয় তারা কোনো একদিকে ঝুঁকে যাচ্ছে। সেই সন্দেহের উদ্রেগ যদি হয়, বাংলাদেশের জনগণের কাছে আপনাদের আর কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। আর যদি গ্রহণযোগ্যতা না থাকে, তার ফলাফল কী হয় শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়া থেকে আমাদের সকলকে শিক্ষা নিতে হবে।' 

আমির খসরু আরও বলেন, 'আগামীর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ছাড়া কারও কোনো অধিকার নাই এদেশ পরিচালনা করার। এদেশ পরিচালনা করতে হলে মানুষের ম্যান্ডেট নিতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে হবে। জনগণ যে ম্যান্ডেট দেবে সেটা সংসদে পাস করতে হবে, যেটার জন্য বিএনপি ওয়াদাবদ্ধ।'

সংস্কারের গল্প বলে সময় সময় ক্ষেপণের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'নতুন নতুন যেসব কথা শুনছি। কখনো বলে আনুপাতিক হারে নির্বাচন, কখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন, এরপরে জাতীয় নির্বাচন, তারপর তারা সংস্কার করে যাবে, শেখ হাসিনার বিচার শেষ করে যাবে। এ সমস্ত কথা বলার সুযোগ নেই। তাদের সেই জায়গায়, সেই দায়িত্ব কেউ দেয়নি।'   

সমসাময়িক রাজনীতির প্রসঙ্গে এই বিএনপি নেতা বলেন, 'যারা সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করে লাভবান হবেন বা হচ্ছেন তাদের বলছি। আপনারা মনে করছেন এ সরকারের একটা অংশ হয়ে গেছেন। এ সরকারকে যতদিন রাখা যাবে ততদিনই আপনারা লাভবান থাকবেন, সরকারের অংশ হয়ে থাকবেন। এটা হওয়া সম্ভব না। যারা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার প্রক্রিয়ার মধ্যে ঢুকেছেন, তাদের সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নির্বাচনের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য মানুষ ১৬ বছর ত্যাগ স্বীকার করেছে।' 

সংস্কারের নামে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। দেশে গণতন্ত্রের পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে শেখ হাসিনার মতো তাদের মোকাবিলার জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’ 

নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলোর সভাপতিত্বে সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এবিএম জাকারিয়া, শহর বিএনপির সভাপতি আবু নাছের, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সলিম উল্লাহ বাহার হিরণ, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ছাবের আহমেদ, জেলা কৃষক দলের সভাপতি ভিপি পলাশ প্রমুখ।