সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে সারজিসের লাইভ, যা বললেন

শোকজের পর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে ফেসবুকে একটি লাইভ করেছেন  জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে কক্সবাজার ভ্রমণ নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার পর প্রথম ফেসবুক লাইভে আসলেন তিনি। 

সমুদ্রপাড়ে দাঁড়িয়ে আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে করা লাইভের শুরুতেই সবাইকে শুভেচ্ছা জানান সারজিস। তিনি বলেন, ‘এনসিপি আমাদের পক্ষ থেকে সারা দেশের মানুষের কাছে একটি ২৪ দফার ইশতেহার দিয়েছি। এই ২৪ দফার মধ্যে ২১ নম্বর যে দফা, সেখানে ছিল জলবায়ু সহনশীলতা এবং নদী ও সমুদ্র রক্ষা।’

সারজিস বলেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের যে সমুদ্রসীমা, এই সমুদ্রসীমা আমাদের ল্যান্ডের যে সীমা এর কাছাকাছি, প্রায় সমপরিমাণ। আমাদের বিশাল এক অপার সম্ভাবনার জায়গা আমাদের এই সমুদ্র। সবচেয়ে বড় হচ্ছে, এই ব্লু জিনিসটাকে কীভাবে আমরা ব্লু ইকোনমিতে পরিণত করতে পারি, কীভাবে আমরা এই বায়ো-ডারভারসিটি রক্ষা করতে পারি, কীভাবে সমুদ্র তীরবর্তী মানুষ যারা রয়েছে, তাঁদের জীবন ধারণ নিশ্চিত করতে পারি, গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের যে উচ্চতা বাড়ছে—এই জায়গায় আমাদের ব্যবস্থা নেওয়া এবং এই সকল জায়গা সরকারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।’

সারজিস বলেন, ‘আমরা দেখছি- কক্সবাজারের যেখানে-সেখানে ভবন তোলা হচ্ছে। কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। যেখানে-সেখানে জমি দখল করছে। সরকারি কর্মকর্তাদের টাকা দিয়ে অবৈধভাবে জমি লিজ নিচ্ছে। সৈকতের পাড়ে প্রাচীর দেওয়া হচ্ছে। কোন গবেষণার ফলে এগুলো হচ্ছে- আমরা জানি না।’

এরআগে, দলের রাজনৈতিক পর্ষদকে আগে থেকে না জানিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে কক্সবাজার ভ্রমণ করায় শীর্ষ ৫ নেতাকে কারণ দর্শনো নোটিশ দেয় এনসিপি। তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে নোটিশের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। 

গতকাল মঙ্গলবার জুলাই ঘোষণাপত্রের অনুষ্ঠান উদযাপনে ঢাকায় লাখো জনতার সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে যোগ না দিয়ে কক্সবাজার যান এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা।

এই ভ্রমণে সারজিস আলমের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী এবং তাসনিম জারার সঙ্গে তাঁর স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহও (খালেদ নিজেও এনসিপির নেতা) আছেন।