সংসদে উচ্চকক্ষের প্রয়োজন নেই বলে মনে করে সিপিডি

বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদে উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে সুপারিশ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক সংলাপে এ সুপারিশ করে সংস্থাটি। তবে উচ্চকক্ষ হলে সংসদে জবাবদিহি বাড়বে এবং স্বৈরাচার হবার পথ বন্ধ হবে বলে মত দিয়েছেন বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল।

বৃহস্পতিবার, রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে, সংসদে উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এই সংলাপের আয়োজন করে সিপিডি। এতে অংশ নেন রাজনীতিবিদ, গবেষকসহ অন্যান্যরা। সংলাপে বর্তমান পরিস্থিতিতে উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে সুপারিশ করে সিপিডি।

তবে উচ্চকক্ষ হলে সংসদে জবাবদিহি বাড়বে এবং নতুন করে স্বৈরাচার হবার পথ বন্ধ হবে বলে মত দেন বিএনপি ও এনসিপি। উচ্চকক্ষের সাথে এমপিদের ক্ষমতা কতটুকু হবে সেটিও ভেবে দেখা দরকার বলে মন্তব্য করেন বিএনপি।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এতে একটা চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স থাকে এবং পার্লামেন্টে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় সংসদ যেন আরও ইনক্লুসিভ ভূমিকা রাখতে পারে।’

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘যে দল অন্তত ১ শতাংশ ভোট পেয়েছে তাকে যদি আমরা প্রতিনিধি দেওয়ার সুযোগ দিতে পারি, যেটা এই কমিশন প্রস্তাব করেছে, তাহলে বহুদলীয় গণতন্ত্র চর্চাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ আমরা দিতে পারি।’

উচ্চকক্ষের মাধ্যমে সংসদে ভারসাম্য তৈরি হবে বলে জানান নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার। তিনি জানান, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দানবে পরিণত হয় শেখ হাসিনা। উচ্চকক্ষ থাকলে পঞ্চদশ সংশোধনী সম্ভবত হতো না।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘শেখ হাসিনা দানবে পরিণত হয়েছে অনেকগুলো আইন-কানুন ও বিধি-বিধানের মাধ্যমে। সবচেয়ে বড় কারণ হলো পঞ্চদশ সংশোধনী। এর মাধ্যমেই তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছেন।’

সংলাপে পরিবর্তিত অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আমার পরামর্শ হলো আগামীতে বাংলাদেশ জবাবদিহিতা বাড়াবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবসময় এ দেশের সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক দলের পাশে থাকবে।’

উচ্চকক্ষ কার্যকর করা গেলে মাঠের রাজনীতিতেও পরিবর্তন আসবে বলে জানান বক্তারা।