গণভোটের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদেশ জারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকেই করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার বিকেলে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এনসিপি জেলা ও মহানগরের সমন্বয় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘গণভোটের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদেশ জারি করতে হবে এবং সেটা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেই দিতে হবে। এখন এই আদেশ যদি চুপ্পুর কাছ থেকে নিতে হয় তাহলে তা হবে বিপ্লবের কফিনের শেষ পেরেক।’
৩০০ আসনেই সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এনসিপি কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে দলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত বলেন, ‘দলের সাংগঠনিক বিস্তার পরিকল্পনা সেই ভিত্তিতেই আমরা নীতি নির্ধারণ করব। আমরা পলিসি ফর্ম করছি, ৩০০ আসনেই যাতে আমাদের সাংগঠনিক বিস্তার ও নির্বাচনকে সামনে রেখে যাতে সুসংগত হতে পারি।’
অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার বিষয় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এনসিপি কার দিকে যাচ্ছে সেটা মুখ্য নয়, সংস্কারের পক্ষে কারা আসছে। আমাদের অবস্থান মৌলিক ও সুস্পষ্ট।’
হাসনাত আরও বলেন, ‘জনগণ যাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে আসবে সেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনা করবে। এতে আমাদের ভিন্ন মত নেই। এজন্যই আমরা চাই নির্বাচনে যাতে কারও প্রভাব না থাকে।’
শাপলা প্রতীক নিয়ে এনসিপি নেতা হাসনাত বলেন, ‘শাপলা প্রতীক কেনো দেবে না তার ব্যাখ্যা দেয়নি নির্বাচন কমিশন। যার ফলে এই নির্বাচন কমিশন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে যদি নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয় তখনও তার ব্যাখ্যা দেবে কি না।’
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের কোনো রূপরেখা নেই। প্রতীক দেওয়ার ক্ষেত্রে লিগ্যাল একটি নিয়ম থাকা উচিত। আমরা সংশয় প্রকাশ করি নির্বাচন কমিশনের স্বেচ্ছাচারী আচরণের। শাপলা কেন দেবে না সেই ব্যাখ্যা তারা দেয়নি। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু নাও হয়, আবার যদি ব্যালট বক্সে চুরির ঘটনা ঘটে– সে সময় যদি তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়, তখন তারা এটিরই পুনরাবৃত্তি করবে যে, ব্যাখ্যা দিতে পারব না। এটি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের লড়াই ছিল।’
সমন্বয় সভায় সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন। সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাঈদ মুসা।