সংসদ নির্বাচন: সমমনাদের কিছু আসনে ছাড় দেবে ইসলামী আন্দোলন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনেই একক প্রার্থী দিতে পারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে কিছু আসনে ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, সংসদ নির্বাচনের আগেই গণভোট চায় তার দল। বর্তমান প্রশাসনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

১৯৯১ সালে চরমোনাই পীর সৈয়দ ফজলুল করিমের হাত ধরে গঠিত এই ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলটি ২০০৮ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’ নামে নিবন্ধন পায়। এরপর থেকেই হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে দলটি।

বিগত সময়ে রাজনৈতিক নানা আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের পর রাষ্ট্রগঠনে অংশ নিতে চায় দলটি।

আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনেই একক প্রার্থী দিতে চায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জোট গঠনের পরিকল্পনা না থাকলেও ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোর সঙ্গে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ভোটের ইস্যুতে তারা ঐক্যবদ্ধ।

সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘যেনতেন নির্বাচন আমরা চাই না। অতীতের মতো প্রহসনের নির্বাচন দেশের জন্য ক্ষতিকর। এখন সরকার কতটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারবে, সেটা নিয়েই আমাদের শঙ্কা। আমরা কোনো জোট করব না; নির্বাচনী সমঝোতা করব— দেশের কল্যাণ, ইসলামের কল্যাণ ও মানবতার কল্যাণের জন্য।’

ক্ষমতায় গেলে সব ধর্মের নাগরিকের নিরাপত্তা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, প্রাধান্য পাবে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা।

সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব যেন ইসলামী নীতি ও আদর্শ এ দেশে বাস্তবায়িত হয়। প্রতিটি মানুষ যেন স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারে। সংখ্যালঘু ও দ্বিজাতি নাগরিকরাও এখানে সুন্দরভাবে বসবাসের পরিবেশ পাবে— এটাই ইসলামের নীতি ও আদর্শ।’

সংসদ নির্বাচনের আগে প্রশাসনের সংস্কারের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।