তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে সরছেন সাকির আসনের হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী!

বিএনপির সমর্থনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়া গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকির (জোনায়েদ সাকি) শক্ত বাধা দূর হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল খালেক ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এমন আভাস পাওয়া গেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আবদুল খালেকের বৈঠকের পর।

গত মঙ্গলবারের ওই বৈঠকের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এরপরই ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের লড়াইয়ে হিসাব-নিকাশ নতুন করে শুরু হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আবদুল খালেককে ডেকে নিয়ে কথা বলার পরই তার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর এবং তাকে কি আশ্বাস দেওয়া হয়েছে– তা নিয়ে নানা কথা ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে আবদুল খালেক ইনডিপেনডেন্টকে বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। তার সম্মানেই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে মনস্থির করেছেন। তবে এ নিয়ে তিনি আজ বৃহস্পতিবার সমর্থকদের সঙ্গে বসবেন।

চেয়ারপারসনের অফিসে  প্রায় ৪০ মিনিটব্যাপী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আর তার মধ্যে কথা হয়েছে জানিয়ে আবদুল খালেক বলেন, ‘দেশের স্বার্থে তিনি (তারেক) আমাকে ত্যাগ স্বীকার করতে বলেন। খুব বিনয় ও আন্তরিকভাবে তিনি কথা বলেছেন। তাছাড়া তিনি আমাকে সম্মানজনক ব্যবস্থা করবেন বলেও আশ্বস্ত করেছেন। দলের বহিষ্কারাদেশও উঠে যাবে।’

২০০১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপি মনোনীত আবদুল খালেক। ত্রয়োদশ নির্বাচনেও দলের মনোনয়ন প্রার্থীদের অন্যতম ছিলেন। কিন্তু আসনটি জোটকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। বিএনপি জোটের প্রার্থী হন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। অন্যদিকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল খালেক ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান। এ কারণে দল থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়। বাছাইয়ে বাদ পড়ে মেহেদী হাসানের মনোনয়ন।

খালেক ভোটের লড়াইয়ে থাকলে বিএনপি জোটের প্রার্থী সুবিধে করতে পারবেন না বলে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জুনায়েদ সাকি ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, ‘আবদুল খালেক আমাদের অভিভাবক। তার সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের যুগপৎ কাজ ভালো ফল বয়ে আনবে আশা করি।’

এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেন মোট ১৫ জন। তাদের মধ্যে বাছাইয়ে বাদ পড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান পলাশ, শাহ মুর্তুজ আলী, মো. আবু কায়েস শিকদার, কাজী দবির উদ্দিন, দেওয়ান মো. নাজমুল হুদার মনোনয়নপত্র। এতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ জনে। তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাঈদ উদ্দিন খান, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. হাবিবুর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. সফিকুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের সফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আবু নাসের, স্বতন্ত্র আবদুল খালেক ও ড. মে. সাইদুজ্জামান কামাল, গণসংহতি আন্দোলনের মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির কে এম জাবির, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের মো. মহসীন।