সাদ্দামের মতো পরিণতি কোনো দলের কর্মীর না হোক: রুমিন ফারহানা

ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের মতো পরিণতি বাংলাদেশের কোনো দল বা কর্মীর যেন না হয় সেজন্য সাবধানে নেতা বাছাই করতে জনগণকে সতর্ক করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল -আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। রোববার সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার টিঘর গ্রামে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘কারাগারে থাকা ছাত্রলীগ কর্মী সাদ্দামের স্ত্রী তার সন্তানকে হত্যা করে নিজেই আত্মহত্যা করেছে। অথচ সাদ্দামকে একদিনের জন্য প্যারোলে বের করে আনবে এমন কোনো নেতা ছিল না। তার স্ত্রী ও সন্তানের মৃতদেহ কারাগারে নিয়ে সে পাঁচ মিনিটের জন্য দেখতে পেরেছে। যাদের পেছনে সাদ্দামের মতো কর্মীরা গত ১৫ বছর রাজনীতি করেছে, যাদেরকে সাদ্দামের মতো কর্মীরা নেতা বানিয়েছে, তারা কিন্তু সাদ্দামের পরিবারের খবর রাখেনি।’

রুমিন আরও বলেন, ‘সাদ্দাম হয়তো ছাত্রলীগ করত। কিন্তু ছাত্রদলেও তো এমন কর্মী ছিল গত ১৫ বছর। যে নেতা কর্মীর পরিবারের খবর রাখে না, যেই নেতাকে নেতা বানাতে গিয়ে কর্মীর দিনশেষে কারাগারে জায়গা হয়। যেই নেতাকে নেতা বানাতে গিয়ে কর্মীর স্ত্রী ও সন্তানকে বিষ খেয়ে মরতে হয়– জনগণ কি সেই রকম নেতা চায়?’

স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর বিএনপির বড় বড় কুতুবের মোবাইল, টেলিফোন বন্ধ ছিল। নম্বর বিদেশি। কর্মীরা সেই নম্বরও জানত না। কিন্তু তখনো মানুষ রুমিন ফারহানাকেই পেয়েছে। তাই সাবধানে নেতা বাছাই করতে হবে। যাতে সাদ্দামের মতো পরিণতি বাংলাদেশের কোনো দলের, কোনো কর্মীর কপালে না ঘটে।’

রুমিন ফারহানা বলেন, তার বাবা, ভাই-বোন কেউ নেই বরং জনগণই তার সব। তাই তিনি সরকার বা বিরোধী দল কিংবা স্বতন্ত্রই থাকুক না কেন জীবন থাকতে তিনি তার কোনো কর্মীর ক্ষতি হতে দেবেন না।

হাঁস প্রতীকের প্রার্থী রুমিন আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রত্যেককে যার যার কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘খেলোয়াড় যখন দেখে গোল করতে পারে না, তখন সে ফাউল করে। তাই ১২ ফেব্রুয়ারি যদি কেউ ফাউল করতে চায় তাদেরকে উচিত শিক্ষা দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানাই।’

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিদেশি কূটনীতিকদের নজরদারি থাকবে।’

পুলিশ, প্রশাসনসহ বড় বড় রাজনৈতিক দলকে স্মরণ করিয়ে রুমিন বলেন, ‘কোনো প্রার্থীর দল না থাকতে পারে। কিন্তু জনগণ তার সাথে থাকলে সেই প্রার্থীর সাথে ফাউল করা আর নিজের গলায় দড়ি দেওয়া একই কথা।’