আমি থাকব বাঘের সাথে, রাশেদকে রাখব গরুর পাশে: এমপি হানজালা

সাবেক গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা মো. রাশেদ খাঁনের মন্তব্যের পাল্টা আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন মাদারীপুর–১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা। রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে রাশেদ খাঁনকে নিয়ে পোস্ট দেন ১১ দলীয় জোটের এই সংসদ সদস্য।

পোস্টে হানজালা লেখেন, ‘রাশেদ খান আমাকে চিড়িয়াখানায় দেখতে নিতে চায়। আমি তো যাবই, তবে থাকব বাঘের সাথে– বাঘ অন্তত নিজের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্ত না! আর রাশেদ খানকে রেখে আসব ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এক গরুর পাশে। দেখি দুজন মিলে কতক্ষণ গল্প করতে পারে! চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষকে শুধু একটা অনুরোধ– গরুটা যেন পরে নাম পরিবর্তনের আবেদন না করে!’ 

এর আগে শনিবার হানজালাকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, ‘এমপি হানজালাকে চিরিয়াখানায় রাখা হোক, যাতে চিরিয়াখানার কাউন্টার থেকে সবাই এই অদ্ভুত প্রাণীটাকে টিকিট কেটে দেখতে পারে! আজকে একজন বিএনপি নেতার সাথে তার যে আচরণ দেখলাম, সত্যিই লজ্জা লাগছে, এসব ম্যানারলেস লোকজন কিভাবে এমপি হলো?’

রাশেদ আরও লেখেন, ‘এর আগে বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলো– আমি হানজালা খোঁচাখুঁচি করলে বিএনপি এই দেশে থাকতে পারবে না। আওয়ামী আমলে এদের এসব গর্জন তো দেখিনি। এরা তখন কোথায় ছিলো? আজকাল এসব লোকদের এতো বেশি ঔদ্ধত্য যে, সরকারি দলের লোকজনকে এরা আওয়ামী জামানার বিরোধীদলের মতো ট্রিট করে। হানজালাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে ওরাই ক্ষমতায় আর বিএনপি বিরোধী দলে। বিএনপির দুর্ভাগ্য যে, এদের হজম করা লাগছে। রাজনৈতিক শূন্যতা ও সংকট না থাকলে আমি নিশ্চিত ঐ বিএনপি নেতা এমপি নামক অদ্ভুত প্রাণীটাকে কানের নীচে দুই পাঁচটা লাগিয়ে দিতো।’

উল্লেখ্য, শনিবার সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মনোনয়নে নির্বাচিত এমপি হানজালাকে উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের ধমক দিতে দেখা যায়।

ভাইরাল ভিডিওতে এমপিকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?’ একপর্যায়ে তিনি টেবিল চাপড়ে বলেন, ‘এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলব। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দেব।’ 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকার তারামিয়া নামে বিএনপির এক কর্মীর সঙ্গে একটি সালিস বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী তারা মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। ওই সালিস বৈঠকে ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিচার চলাকালে আমার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এমপি সাহেব বিচারের মধ্যে অন্য কাউকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে রায় দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।’

তারা মিয়া আরও বলেন, ‘যেখানে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিস অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে বিচার নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও মতামত আসতেই পারে। একজন বিচারকের দায়িত্ব হলো সেসব কথা ধৈর্যসহকারে শোনা। তা না হলে সেটি জনসম্মুখের সালিশ না হয়ে ঘরোয়া বা একতরফা বিচার হয়ে যায়।’