প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে হান্নান মাসউদের বক্তব্যে সংসদে তীব্র বাকবিতণ্ডা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও এনসিপি নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদের একটি বক্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রোববার ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ পরিস্থিতির তৈরি হয়।

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় হান্নান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখানে নেই। কিন্তু উনি যখন বিভিন্ন ভাষণে গিয়ে অসত্য তথ্য দিয়ে বলেন—বিরোধী দল মিছিল করতেছে মদের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বা সিগারেটের দাম বৃদ্ধি করার কারণে; এমন অসত্য তথ্য দিয়ে যখন প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন, আমরা খুবই আশাহত হই। যখন ঋণ নিয়ে আমরা সংসদে কথা বলতে যাই, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কথা বলতে যাই, তখন প্রধানমন্ত্রী যদি বলেন আপনারা সবাই জমিদার যারা ঋণ নেন নাই; এর মধ্য দিয়ে মূলত প্রধানমন্ত্রী ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করেন।’

হান্নান মাসউদের এই বক্তব্যের পরই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে হান্নান মাসউদ ভুল তথ্য দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এই কারণে তিনি সেই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান।

এর পরপরই বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ফ্লোর নেন। তিনি বলেন, ‘এখানে সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক দাঁড়িয়ে বলেছেন হান্নান মাসউদ ভুল তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু কোন তথ্যটা ভুল ছিল, সেটা বলেননি। আমরা দেখেছি প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে স্লিপ অব টাং (মুখের কথা ফসকে যাওয়া) হিসেবে ভুল বলেছেন, পরে সেটা তিনিই শুধরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করার অধিকারও বিরোধী দলের আছে। ওনাকে আমরা সম্মান করি, এর মানে এই না যে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করা যাবে না।’

নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্যের পরই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হান্নান মাসউদের বক্তব্যের যে অংশটুকু অসত্য আছে, সেটা এক্সপাঞ্জ (কার্যবিবরণী থেকে বাদ) করতে স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘সংসদ নেতাকে নিয়ে অসত্য বক্তব্য এখানে মেনে নেওয়া যাবে না।’

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের মধ্যেই বিএনপি ও জামায়াত সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে হান্নান মাসউদ আবার বক্তব্য দিতে চাইলে তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, ‘যখন-তখন দাঁড়াবেন, এটা সংসদের রীতি না। আপনি বসুন। হান্নান মাসউদ, এটা শাহবাগ চত্বর নয়, এটা জাতীয় সংসদ।’

স্পিকারের ঠিক এই বক্তব্যের পরই বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ফ্লোর নেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘হান্নান মাসউদ বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংসদ নেতার বিষয়ে কিছু কথা বলেছেন। আমি আপনাকে অনুরোধ করব—বাইরের কোনো বক্তব্যকে টেনে এনে এখানে বক্তব্য দেওয়া বা কোনোটাই যেন অ্যালাউ (অনুমতি) করা না হয়।’

হান্নান মাসউদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এটা সত্য, এটা অসত্য—এই ঝগড়ায় যদি যাই, তাহলে অনেক কিছু আমাদের জন্য লজ্জাজনক হয়ে যাবে। আমি চাচ্ছি না কারও সম্মানের সাথে এই লজ্জাটা লেগে থাকুক। আমি অনুরোধ করব—এই বিষয়ের পুরোটাই আপনি এখান থেকে ইগনোর (উপেক্ষা) করুন, সেটাই কল্যাণকর হবে।’