এনসিপি সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করে ছাড়বে: নাহিদ ইসলাম

স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু না করলে এনসিপি সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করে ছাড়বে।

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের জরুরি বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় দেশে আইনশৃঙ্খলা অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত করতে হবে। দফায় দফায় নির্বাচনের তারিখ পেছানো হচ্ছে। ইসি দলীয়করণ হচ্ছে। সরকারও চাইছে নির্বাচন যেন সুষ্ঠু না হয়। দেশের স্থিতিশীলতার কথা ভেবে জাতীয় নির্বাচনের মত বসে থাকবে না এনসিপি। এনসিপি এককভাবে নির্বাচনে দাঁড়াবে। সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু না করলে এনসিপি সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করে ছাড়বে।

এ সময় মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুর ৫ আগস্টের পর শুরু হওয়া বিএনপির নৈরাজ্যের ধারাবাহিকতা বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি আরও বলেন, চাকরির দলীয়করণ দেখা যেত বিগত স্বৈরাচারের আমলে। প্রাইমারি নিয়োগ পরীক্ষায় এর স্পষ্ট উদাহরণ দেখা গেছে। কোনো সুস্পষ্ট অভিযোগ ছাড়া ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়রানি বা নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। অন্যায্যভাবে কেউ বাদ পড়লে এনসিপি তার পাশে থাকবে।

তিনি বলেন, এনসিপি এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। আমরা সারা দেশের তরুণদের আহ্বান জানাব। মাদক, দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেখানে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাবে, আমরা তাদের সমর্থন দেব। জাতীয় নির্বাচনে যা অর্জন করা সম্ভব হয়নি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে অবস্থান করবে। 

নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচিত সরকার এলে মব থাকবে না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক হবে– এসব দাবি করা হয়েছিল। বাস্তবে তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রায়ই অসংলগ্ন কথা বলে থাকেন। তাকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করা সম্ভব নয়।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের বক্তব্যে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার সেখানে বলেছেন। নিজের প্রকল্পগুলোর কথা বলেছেন যার সবই ব্যর্থ। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারেননি। জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা দিয়েছেন, তিন প্রজন্মের তিনজন বক্তৃতা দিয়েছেন। এটাই নাকি অর্জন। এটি মূলত লজ্জার।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন কমিটি একটি জনবিরোধী কমিটি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেন নির্বাচনের স্বার্থে তারা সংস্কারে রাজি হয়। মূলত তার সদিচ্ছা নেই। অথচ তিনিই এই কমিটির প্রধান। সংশোধনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসে না। এটা বিএনপির নাটক। দ্রুত সংবিধান সংস্কার সভা ডাকতে হবে নইলে কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে এনসিপি।

সাইবার নিরাপত্তা আইন জনগণের কথা বলার অধিকার সংকুচিত করতে প্রণীত হচ্ছে বলেও এ সময় অভিযোগ করেন তিনি।