স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটবদ্ধ অংশগ্রহণের লক্ষ্যেই সমমনা ইসলামী দল গঠনের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। এর মধ্যে কোনো দল অন্য জোটে থাকলেও তাতে সমস্যা হবে না বলে মনে করছে হেফাজতে ইসলাম। তবে সরকারের ইন্ধনে ১১ দলীয় জোট থেকে কিছু দলকে বের করার চেষ্টা করছে হেফাজতে ইসলাম-এমন অভিযোগ জামায়াতে ইসলামীর।
কওমি ধারার ৭টি ইসলামি দল নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়তে বৃহস্পতিবার গঠন করা হয় ‘সমমনা ইসলামি দল’ নামের নতুন জোট। এই জোটে আছে—বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন।
সামনে জোট আরও বড় হতে পারে বলে জানালেন নেতারা। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন বলেন, স্থানীয় নির্বাচন সামনে কিছুদিনের মধ্যে হবে। এই নির্বাচনে বিএনপি–জামায়াত এককভাবে অংশ নেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। আমরা মনে করি, এককভাবে না করে জোটগতভাবে যদি করতে পারি, তাহলে রেজাল্টটা ভালো আসবে।
জাতীয় নির্বাচনের সময় কওমি কেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে বিভেদ দেখা গিয়েছিল এখন তা কমে আসবে বলে আশা হেফাজতে ইসলামের।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির বাহাউদ্দিন জাকারিয়া বলেন, বিগত সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটা বিভেদ তৈরি হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম মনে করেছে, এই দলগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ থাকা যায়, তাহলে দেশ, জাতি ও ইসলামের পক্ষে আরও জোরালভাবে কাজ করা যাবে।
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন যোগ দিয়েছে নতুন জোটে। এ দুই দল একইসঙ্গে দুই জোটেই থাকবে।
তবে জামায়াতের অভিযোগ, সরকারের ইন্ধনে ১১ দলীয় জোটে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে হেফাজতে ইসলাম।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, হেফাজতে ইসলাম একটা অরাজনৈতিক প্লাটফর্ম, তারা সরকারের ইন্ধনে জোট থেকে দলগুলোকে বের করতে এটি চাপ তৈরি করছে। আমরা জানতে চেয়েছে, এ জায়গায় তাদের অবস্থান কী।
১১ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত কোনো কোনো দল নতুন জোটে যোগ দিলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত তারা ১১ দলে থাকবে বলেও জানান তিনি।