আবাহনী মাঠের নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

ধানমন্ডিতে আবাহনী মাঠ নামে সুপরিচিত মাঠের মালিকানা হারিয়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী লিমিটেড। ক্লাব একাধিক শর্ত ভাঙায়, ধানমন্ডির দুটি মাঠের তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পেয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। 

সচিবালয়ে আজ দুপুরে মাঠ নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এখন থেকে আবাহনী মাঠ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর একটি আবাহনী। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এগিয়ে যাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে এই ক্লাবটি। এবার সেই ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করলো গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। কারণ হিসেবে চুক্তির একাধিক শর্ত ভঙ্গের কথা বলা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে মাঠের লিজ মানি সময়মতো পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়া এবং অনুমতি ছাড়া অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ। 

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানান, রাজনৈতিক প্রভাব ও শর্তভঙ্গের কারণে মাঠের মালিকানা হারাল আবাহনী ক্লাব। তিনি বলেন, '(আবাহনী) লিজ মানি দেয়নি। এছাড়া তাদের সাথে আমাদের যে চুক্তি ছিল যে, যেসব স্থাপত্য করার কথা, অবৈধ স্ট্রাকচার- যেটা আমাদের নলেজের বাইরে গিয়ে করেছে। সেই সব কারণে এটাকে বাতিল করা হয়েছে এবং বর্তমানে আমরা এটাকে (মাঠকে) ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে দিচ্ছি।'  

আবাহনী মাঠ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হলো যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে। এ বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, এখন থেকে সবার জন্যই উন্মুক্ত থাকবে এই মাঠ এবং প্রয়োজনে সব ডিসিপ্লিনের খেলাধুলাই হবে এখানে।

তিনি বলেন, 'আমরা এই মাঠগুলোকে যথার্থভাবে কীভাবে ব্যবহার করতে পারি, সেক্ষেত্রে আমাদের ধানমন্ডি মাঠে ইতোমধ্যেই কিছু অবকাঠামো আছে, আপনারা জানেন। সেখানে আমরা নতুন কিছু সংযোজন করতে চাই। সেটির ভেতর অন্যতম যেমন আমাদের ভবিষ্যতে আর্চারিতে অনেক ভালো করার সুযোগ রয়েছে, শুটিংয়ে ভালো করার সুযোগ রয়েছে। সেই অবকাঠামোগুলো আমরা তৈরি করতে চাই। 

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আরও জানান, আগের অবকাঠামো ঠিক রেখেই সুন্দরভাবে মাঠ পরিচালনার লক্ষ্য সরকারের। 

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, '...এই স্ট্রাকচারটা আছে, সেটাকে রেখেই আমরা সামনের দিকে এগোবো। এবং এটাকে আমরা ভাঙ্গবো না; না ভেঙ্গে কীভাবে এটাকে আমরা কাজে লাগাতে পারি, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এবং আমি আলাদা করে আবাহনী ক্লাবের অফিশিয়ালদের সাথে কথা বলেছি। ধানমন্ডি ক্লাবের যারা আছেন তাদের সাথে কথা হয়েছে। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সাথেও বিস্তারিত কথা হয়েছে।'  

শুধু আবাহনী মাঠ নয়, ধানমন্ডি ক্লাবের অধীনে থাকা মাঠও এখন থেকে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্ববধানে থাকবে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখেই পরিচালিত হবে এই দুই ক্লাব ও মাঠ।