সেঞ্চুরিগুলো বুঝি বিশ্বকাপের জন্যই জমিয়ে রেখেছিলেন ডি কক

আগের দুই ওয়ানডে বিশ্বকাপে তাঁর ব্যাট কোনো সেঞ্চুরি দেখেনি। সে দুই বিশ্বকাপে কুইন্টন ডি কক ব্যাটিংয়ে নেমেছেন ১৭ বার।

গত দুই বিশ্বকাপ একপাশে রাখুন, এই বিশ্বকাপের আগে ওয়ানডেতে তাঁর সর্বশেষ সেঞ্চুরিই ২০ মাস আর ১৮ ইনিংস আগের কথা। ওয়ানডে ফরম্যাটে ‘অনেক হয়েছে’ ভেবে এবারের বিশ্বকাপ শেষেই এই ফরম্যাট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েই ভারতে গেছেন ডি কক।

প্রভাত যদি দিনের ইঙ্গিতবাহী হয়, তবে শেষটা রাঙিয়েই যাওয়ার বন্দোবস্ত করে রেখেছেন কুইন্টন ডি কক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার রেকর্ডগড়া ৪২৮ রানের ইনিংসে তিন ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে প্রথম ডি কক। লক্ষ্ণৌতে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও আবার সেঞ্চুরি দেখল ডি ককের ব্যাট।

ডি ককের ১০৯ রানের পাশাপাশি আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান এইডেন মার্করামের ফিফটি (৪৪ বলে ৫৬) মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আজ ৭ উইকেটে ৩১১ রান করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।  

লক্ষ্যটা ৩১২ না হয়ে আরও ২০-৩০ রান বেশি করতে পারলে খুশি হতো দক্ষিণ আফ্রিকা। ডি কক হয়ে মার্করাম ক্রিজে থাকার সময় পর্যন্ত ৩৪০-৩৫০ রানও খুবই সম্ভব বলেই মনে হচ্ছিল। ১৮ ওভারেই ১০০ রান হয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার, তা-ও কোনো উইকেট না হারিয়ে। ২০০ হয়ে যায় ৩৬ ওভারে, কিন্তু ২৯তম ওভারে র‍্যাসি ফন ডার ডুসেনের পর ৩৫তম ওভারে ডি ককের বিদায়ে কিছুটা গতি হারায় প্রোটিয়া ইনিংস।

মার্করাম এরপর গতি বাড়ানোর কাজ করেছেন, তবে তিনিও ফিরে যান ৪৩তম ওভারে। শেষদিকে মিলার (১৩ বলে ১৭) সেভাবে ঝড় তুলতে না পারলেও মার্কো ইয়ানসেন (২২ বলে ২৬) রানটা ৩০০ পার করাতে সাহায্য করেছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার এতটুকু আক্ষেপ বাদ দিলে ইনিংসটা বলতে গেলে ডি কক আর মার্করামের অসাধারণ ধারাবাহিকতার বিজ্ঞাপন। ওপেনিংয়ে সঙ্গী বাভুমা খাবি খেয়েছেন উইকেটে, দুবার জীবন পেয়েও শেষ পর্যন্ত ৫৫ বলে ৩৫ রান করে আউট হয়েছেন, এতে ভেঙেছে ১০৮ রানের উদ্বোধনী জুটি।

তার আগেই অবশ্য ৫১ বলে ফিফটি করে ফেলেছেন ডি কক, ততক্ষণেই তাঁর ইনিংস দেখে ফেলেছে ৫টি চার ও ২ ছক্কা! ফিফটির পর আরও আগ্রাসী – সেঞ্চুরিতে পৌঁছেছেন ৯০ বলে, তাতে চার ৮টি, ছক্কা ৫টি। শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন দলকে ২০০ থেকে ৩ রান দূরে রেখে।

ডি ককের পর প্রোটিয়া ইনিংসে রানের গতি ধরে রেখেছেন মার্করাম। আগের ম্যাচের তিন সেঞ্চুরিয়ানের একজন মার্করাম ৪১ বলে ফিফটিতে পৌঁছেছেন (৬ চার, ১ ছক্কা), এরপর অবশ্য আর একটা চার মেরেই আউট হয়ে গেছেন ৪৪ বলে ৫৬ রান করে।