আগের রাউন্ডে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে একেবারে ধসিয়ে দিয়েছিল আর্জেন্টিনা, হারিয়েছে ৩-০ গোলে। কিন্তু আজ যখন প্রতিপক্ষ হয়ে এল জার্মানি, আর্জেন্টিনা আর অত দাপট দেখাতে পারল না। ৯০ মিনিটের শেষ মুহূর্তে গোল করে তবু ম্যাচে ৩-৩ সমতা ফিরিয়েছিল, কিন্তু টাইব্রেকারে গিয়ে আর পারল না আর্জেন্টিনা। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে জার্মানি।
আগামী শনিবার ফাইনালে জার্মানির প্রতিপক্ষ হবে কোন দল, তা ঠিক হবে আজ সন্ধ্যায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ফ্রান্স-মালি ম্যাচে। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অবশ্য এখনই শেষ নয়, আগামী শুক্রবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তারা খেলবে আজ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দলের সঙ্গে।
টাইব্রেকারের আগে যোগ করা সময়ে গোলকিপার বদলেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু তা তেমন কাজে এল না। বদলি গোলকিপার ভিলালবা অবশ্য টাইব্রেকারে একটা শট ঠেকিয়েছেন, বাকি শটগুলোর প্রতিটিতেই ঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছেন। তবে তাঁর এই শট ঠেকানোর আগেই মূলত আর্জেন্টিনার সর্বনাশ হয়ে গেছে। ভিলালবা ঠেকিয়েছেন জার্মানির তৃতীয় শট, কিন্তু তার আগে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই শটেই বল জালে জড়াতে ব্যর্থ ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো ও 'নতুন মেসি' ক্লদিও এচেভেরি। জার্মানি গোলকিপার হাইডা দুবারই দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়েছেন শট। জার্মানি পঞ্চম শটে গোল করার পর আর্জেন্টিনার পঞ্চম শটটি আর নেওয়ার দরকার পড়েনি।
পঞ্চম শটটি অগুস্তিন রুবের্তোই নিতেন কি না, তা জানা যাচ্ছে না। তার আগেই দলের হার নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় রুবের্তোর আফসোসই বেশি। তাঁর অসাধারণ হ্যাটট্রিক যে বিফলে গেল! আর্জেন্টিনার তিন গোলই রুবের্তোর। তৃতীয় গোলে আর্জেন্টিনাকে ৩-৩ সমতায় তো ফিরিয়েছেন একেবারে শেষ মুহূর্তে, যোগ করা ৮ মিনিট সময়ের সপ্তম মিনিটে!
ম্যাচটা অবশ্য হয়েছে অসাধারণ। জার্মানি দুবার ম্যাচে এগিয়ে গিয়েছিল, আর্জেন্টিনা মাঝে দ্বিতীয়বার এগিয়ে যায়। ৯ মিনিটে পারিস ব্রুনারের গোলে জার্মানির এগিয়ে যাওয়া, এরপর রুবের্তোর জোড়া গোল। ৩৬ মিনিটে সমতায় ফেরালেন, বিরতির ঠিক আগে আর্জেন্টিনা এগিয়েও গেল! তখন তো আর্জেন্টিনার গ্যালারিতে উল্লাস!
কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন জার্মানি, তখন কোনো দলের স্বস্তিতে থাকার কোনো উপায় কি আর থাকে! ৫৮ মিনিটে সেই ব্রুনারই সমতায় ফেরালেন জার্মানিকে, ৬৯ মিনিটে আর্জেন্টিনার রক্ষণের ভুলে গোল করে জার্মানিকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ম্যাক্স মোয়েরস্টাট।
মিনিট বিশেক বাকি, আর্জেন্টিনা পিছিয়ে। আর্জেন্টিনার 'প্যানিক' শুরু হলো বলে! এরপর ম্যাচটা জমেছে বেশ, দুই দিকে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ হয়েছে। মরিয়া আর্জেন্টিনার ভুলের পরিমাণ বেড়েছে। মনে হচ্ছিল, আর্জেন্টিনা বুঝি আর পারছে না।
কিন্তু যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে দারুণ দলীয় আক্রমণের পর গোল আর্জেন্টিনার! আবার রুবের্তো! হ্যাটট্রিক! বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে! আর্জেন্টিনার জন্য তার চেয়েও বড় সুখবর তখন স্কোরলাইনটাঃ ৩-৩!
বয়সভিত্তিক ফুটবলে ৯০ মিনিটের পরই টাইব্রেকারের নিয়ম, ওই গোলে আর্জেন্টিনা উদ্বুদ্ধ হয়েই গেল টাইব্রেকারে। কিন্তু সেখানে শুরুতেই সর্বনাশ। সেখান থেকে আর ফেরা হলো না আর্জেন্টিনার।