মায়ার্সের মায়াদয়াহীন পিটুনির পর 'চাঁটগার ছেলে' তামিমের হাতেই শেষ চট্টগ্রাম  

ম্যাচটা বাঁচা মরার। হারলেই বিদায় এবারের বিপিএল থেকে। এমন ম্যাচে কিনা বরিশালের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে মাত্র ১৩৬ রানের টার্গেট দিয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স! এমন সহজ লক্ষ্য অনায়াসেই পেরিয়েছে বরিশাল। 

চট্টগ্রামের ছেলে তামিম ইকবালই চট্টগ্রামকে বাড়ি পাঠালেন। কাইল মায়ার্সের ঝোড়ো ফিফটির পাশাপাশি অধিনায়ক তামিমের অপরাজিত ৫২ রানের সৌজন্যে ৩১ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটে জিতেছে বরিশাল। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে বরিশালের প্রতিপক্ষ হবে আজ সন্ধ্যায় প্রথম কোয়ালিফায়ারে হেরে যাওয়া দল।

বরিশাল ইনিংসের শুরুতেই ব্রেক-থ্রু পেয়েছিল চট্টগ্রাম। শুভাগত হোমের দ্বিতীয় বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ব্যাটে-বলেই করতে পারেননি বরিশাল ওপেনার সৌম্য সরকার। আগেই ব্যাট চালিয়েছিলেন ৩১ বছর বয়সী বাঁহাতি ওপেনার। শুভাগতর বলটি স্পিন না করে সৌম্যের ব্যাটের উল্টো দিকে লেগে ধরা পড়ে উইকেটকিপার ইমরানুজ্জামানের হাতে। 

তবে উইকেট নিয়ে যেন উল্টো বিপদ ডেকে আনে চট্টগ্রাম। তিনে নামা কাইল মায়ার্স রীতিমতো তাণ্ডব চালান চট্টগ্রামের বোলারদের ওপর। ঝড়টা বেশি গেছে শুভাগতর ওপর দিয়েই। চট্টগ্রাম অধিনায়কের তৃতীয় ওভারে ৩ ছক্কা ও ২ চারে ২৬ রান তোলেন মায়ার্স। অন্যদিকে তামিম ইকবালও ছিলেন স্বরূপে। 

মাঠে আসা দর্শকের অধিকাংশের সমর্থন ছিল বরিশালের দিকে। একের পর এক বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে দর্শকদের বিনোদনের খোরাক যোগান তামিম-মায়ার্স। দুজনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে ৭৩ রান তোলে বরিশাল। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনের ৫৪ বলের জুটিতে ওঠে ৯৮ রান। ইনিংসের দশম ওভারে দলকে বিদায় নেন মায়ার্স, তবে ততক্ষণেই বরিশালকে ১০০ পার করিয়ে দিয়েছেন, তাঁর নামের পাশেও তখন ২৬ বলে ৩ চার ৫ ছক্কায় ৫০!

মায়ার্স আউট হলেও দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছেন তামিম। এর আগে ৪১ বলে ৯ চারে তুলে নেন এবারের টুর্নামেন্টের তৃতীয় ফিফটি।

প্লে-অফের জন্যই দক্ষিণ আফ্রিকার বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান ডেভিড ‘কিলার’ মিলারকে নিয়ে এসেছে বরিশাল, তবে আজ তাঁর ব্যাট হাসেনি। তার দরকারও অবশ্য পড়েনি। চারে নেমে মিলার ১৩ বলে ১৭ রান করে আউট হয়ে গেছেন। তার আগে আজ মায়ার্সই যে ‘কিলার’ হয়ে উঠেছিলেন!