কানপুর টেস্ট আড়াই দিনের বেশি বৃষ্টির দখলে ছিল। কিন্তু বাকি যে সময় যতটুকু খেলা হয়েছে, সেটাই র্যাঙ্কিংয়ে ওলটপালট করে দিতে যথেষ্ট ছিল। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে টেস্ট বোলারদের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ইনিংসে ৫উইকেট পেয়েও লাভ হয়নি অশ্বিনের, ৬ উইকেট নিয়ে র্যাঙ্কিংয়ে তাঁকে টপকে গেছেন যশপ্রীত বুমরা। যদিও দুজনের মধ্যে রেটিং পয়েন্টের পার্থক্যটা চমকে দেওয়ার মতো। ৮৬৯ পয়েন্ট নিয়ে এখন দুইয়ে আছেন অশ্বিন। ৮৭০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বুমরা। এ দুজনের পরের দুটি স্থান দুই অস্ট্রেলিয়ান- জশ হ্যাজলউড ও প্যাট কামিন্সের।
কঠিন উইকেটে মাত্র আড়াই দিনের মধ্যে ম্যাচ বের করে নেওয়ার কৃতিত্ব বুমরা ও অশ্বিন যেমন পাচ্ছেন, এরচেয়েও বেশি ভূমিকা ছিল ওপেনার যশস্বী জয়সোয়ালের। দুই ইনিংসেই ঝোড়ো গতিতে তাঁর ফিফটি ভারত অধিনায়ককে সাহসী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
কানপুরের ম্যাচসেরা র্যাঙ্কিংয়ে দুই ধাপ এগিয়ে এখন ব্যাটসম্যানদের তিনে। অনেক বড় ব্যবধানে এক-এ জো রুট। জয়সোয়ালের নাগালেই আছেন নিউজিল্যান্ডের কেইন উইলিয়ামসন। এই মাসেই ভারত-নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি হচ্ছে। এই সিরিজেই হয়তো উইলিয়ামসনকে টপকে যেতে পারেন জয়সোয়াল।
শুধু জয়সোয়াল নন, বিরাট কোহলিও দারুণ আগ্রাসন দেখিয়েছেন। তার পুরষ্কারও পেয়েছেন, প্রথম টেস্টে ব্যর্থ কোহলি পাঁচ ধাপ পিছিয়েছিলেন। কানপুরে ৪৭ ও ২৯* রানের ইনিংসে ছয় ধাপ এগিয়ে ছয়ে চলে এসেছেন। রোহিত শর্মা অবশ্য আগের মতোই ব্যর্থ বলে আবার পাঁচ ধাপ পিছিয়েছেন। সিরিজের আগে পাঁচে থাকা রোহিত এখন আছে পনেরোতে!
বাংলাদেশের দুই স্পিনারও এগিয়েছেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ৬ উইকেট নিয়ে চার ধাপ এগিয়ে আছেন ১৮তে। আর নিজের সম্ভাব্য শেষ টেস্টে ৪ উইকেট নেওয়া সাকিব এগিয়েছেন ৫ ধাপ (২৮)। বোলিং র্যাঙ্কিংয়ে একটা মজার কাণ্ড ঘটেছে। গত ম্যাচ খেলা তাসকিন ও নাহিদ রানা না খেলেও এক ধাপ পিছিয়েছেন। আর এই ম্যাচে নামা খালেদ পিছিয়েছেন ৬ ধাপ।
আগের ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ কানপুরে মাত্র ১ উইকেট পেয়েছেন। তাতে ৩ ধাপ পিছিয়ে চলে গেছেন ৪৭ এ। ওদিকে সিরিজে একাদশে সুযোগ না পাওয়া নাঈম হাসান না খেলেই এক ধাপ এগিয়ে উঠেছেন ৪৬-এ!
ব্যাটিংয়েও এক ধাপ এগোনো মিরাজ অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ে দুই ধাপ এগিয়ে পাঁচে। সাকিব আগের মতোই তিনে আছেন। তবে ব্যাট হাতে সাকিব (৫১) পিছিয়েছেন ৮ ধাপ। লিটন (২৭) পিছিয়েছেন ৭ ধাপ। এক ধাপ পিছিয়ে ২৪-এ মুশফিক। সেঞ্চুরির সুবাদে ১৬ ধাপ এগিয়েছেন মুমিনুল (৪২)। দুই ইনিংসে ৫০ রান করে দুই ধাপ এগিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তও(২)।