১৪ চার ১১ ছক্কায় ১৯১ রান পাত্তা পেল না ১৩ চার ৪ ছক্কায় ১৫৮ রানের সামনে

টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নেদারল্যান্ডসের বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালাতে থাকেন জর্জ মানসি। ইনিংসের এক ওভার বাকি থাকতে ভিভিয়ান কিংমার বলে বোল্ড হয়ে মানসি ঝড় যখন থামল, ততক্ষণে বাঁহাতি ওপেনারের নামের পাশে লেখা হয়ে গেছে ১৫০ বলে ১৪ চার ও ১১ ছক্কায় ১৯১ রান! আইসিসির সহযোগী দেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। এতদিন রেকর্ডটা ছিল পল স্টার্লিংয়ের। ২০১০ সালে কানাডার বিপক্ষে ১৭৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন আইরিশ মারকুটে ব্যাটসম্যান।

মানসির রেকর্ড গড়া ইনিংসের দিনে শেষ দিকে অধিনায়ক ম্যাথিউ ক্রসের ফিফটি (৪৯ বলে ৫৯ রান) ও মিচেল লিয়াস্কের ১৪ বলে ২৮ রানের ক্যামিওতে ৩৬৯ রানের সংগ্রহ পায় স্কটল্যান্ড।

কিন্তু এমন দিন কাটানোর পরও শেষ পর্যন্ত পরাজিত দলেই থাকতে হয়েছে মানসিকে। ম্যাক্স ও’ডাউডের ১৩০ বলে ১৩ চার ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত ১৫৮ রানে ভর করে ইনিংসের ৪ বল আর ৪ উইকেট হাতে রেখে স্কটিশদের ৩৬৯ রান পেরিয়ে গেছে নেদারল্যান্ডস। তাতে রেকর্ড বইয়েও উঠেছে দেশটির নাম।

ওয়ানডে ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড এখন এটিই। এ তালিকায় প্রথম দুটি নামই সাউথ আফ্রিকার। ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার করা ৪৩৪ তাড়া করে জেতার রেকর্ডটা আছে সবার ওপরে। দুইয়ে থাকা রেকর্ডটার প্রতিপক্ষও একই। ২০১৬ সালে ডারবানে অস্ট্রেলিয়ার ৩৭১ পেরিয়ে গিয়েছিল প্রোটিয়ারা। গতকাল স্কটল্যান্ডের ৩৬৯ টপকে তালিকার তৃতীয় স্থানটা দখল করল নেদারল্যান্ডস।

গতকাল রান তাড়ায় ডাচ শুরুটা ভালোই হয়েছিল। ও’ডাউড- মিচেল লেভিটের উদ্বোধনী জুটিতে ৯.২ ওভারে ৬৭ রান পায় নেদারল্যান্ডস। সেখান থেকে মাত্র ৮ রানের ব্যাবধানে ২ উইকেট হারায় তারা। লেভিট ৪৪ রানে আউট হওয়ার পর জ্যাক লায়ন-কাচেত ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন ৩ রান করেই।

এক প্রান্তে উইকেট গেলেও অন্য প্রান্তে টিকে ছিলেন ও’ডাউড। অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৬৮ রান তোলেন ডানহাতি ওপেনার। এডওয়ার্ডস ৩২ রানে আউট হওয়ার পর ওয়েসলে বারেসি ১৩ রানে আউট হলে কিছুটা চাপে পড়ে ডাচরা।

তবে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৯১ বলে ১১১ রান তুলে নেদারল্যান্ডসের চাপ কমিয়ে দেন তেজা নিমামানুরু-ও’ডাউড। নিদামানুরু ফিফটি (৪২ বলে ৫১ রান) করেই আউট হলেন। হাতে ৫ উইকেট থাকলেও তখনও জয়ের জন্য ৫৯ বলে ৯১ রান দরকার নেদারল্যান্ডসের।

এমন পরিস্থিতিতে সাতে নেমে মাত্র ২৯ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলে ডাচদের সমীকরণটা সহজ করে দেন নোয়া ক্রোয়েস। সমীকরণের বাকি অংশটা মিলিয়ে নেদারল্যান্ডসের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন ও’ডাউড।