মাঠে লড়ছিল অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ, মাঠের বাইরে তখন তোলপাড় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোয়াডে থাকা এক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ১১ নারী ধর্ষণ, যৌননিপীড়ন, হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন। এদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আছেন, আছেন নিকটাত্মীয়!
গত ২৭ জুন গায়ানার কেইটিউর নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। সেখানে বলা হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে খেলছেন এমন এক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তিনি গায়ানার নাগরিক।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এক নারী দাবি করেছেন, ২০২৩ সালের ৩ মার্চ নার্বিচের নিউ আমস্টেরডামের এক বাড়িতে তাঁকে ধর্ষণ করেছেন ওই ক্রিকেটার। বলা হয়েছে, এক পার্টির কথা বলে তাঁকে সে বাড়িতে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে আরও অনেকে ছিলেন বলে শুরুতে নিরাপদ বোধ করছিলেন। কিন্তু পরে তাঁকে ওপরতলায় নিয়ে ধর্ষণ করেন ক্রিকেটার। সে সময় ওই নারী অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল।
ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করেছে, ক্রিকেটারের পরিবার ঘটনা ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করছে। গায়ানার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও এতে সাহায্য করছে।
সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর আরও অনেকে এগিয়ে এসেছেন অভিযোগ নিয়ে। তাদের সবার কাছেই প্রমাণ আছে- স্ক্রিনশট, ভয়েস নোট, চিকিৎসার বিল, মোবাইল মেসেজ। কারও অভিযোগ ধারাবাহিক যৌন নিপীড়নের, কারও সেটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার।
এক ভুক্তভোগী বলেছেন, ক্রিকেটার ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য অর্থ দিতে চেয়েছিল। কিন্তু পরিবার তাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, ‘আমি অর্থ চাই না। আমার মেয়ের সঙ্গে যা করেছে, তার বিচার চাই।’
তবে এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা হয়নি কোনো অভিযোগের। তবে এক ভুক্তভোগীর আইনজীবী নাইজেল হিউজেস জানিয়েছেন দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০২৩ এর শুরুতে একটি অভিযোগ করা হয়েছিল। অভিযোগের তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে অভিযোগ লোকচক্ষুর আড়ালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
হিউজেস বলেছেন, বারবার এর হালনাগাদ তথ্য চেয়েও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগকারী কিশোরী আইনি হেনস্তা ও দীর্ঘসূত্রিতায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
বেশ কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গায়ানার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযোগগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ক্রিকেটারের পরিচিত প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও চাপ দিচ্ছে। যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ওই ক্রিকেটার। বলা হচ্ছে, ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী অপ্রাপ্তবয়স্ক ও নিকটাত্মীয়। পরে বিবৃতি প্রত্যাহার করে নেয় ওই কিশোরী এবং কেস বাতিল হয়ে যায়।
ক্রিকেটার পরিচয় সরাসরি জানানো হয়নি। শুধু বলা হয়েছে ২০২৪ এর জানুয়ারিতে বিখ্যাত গ্যাবা টেস্টের জয়ী দলে ছিলেন এবং সফর শেষে ফেরার পর তাঁকে গায়ানায় নায়কের মতো বরণ করে নেওয়া হয়েছে। সে টেস্টে গায়ানার তিন ক্রিকেটার দলে ছিলেন- ট্যাজেনারিন চন্দরপল, কেভিন সিনক্লেয়ার ও শামার জোসেফ।
তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বারবাডোজ টেস্টে এঁদের মধ্যে শুধু শামারই খেলছেন। ফলে অভিযুক্ত ক্রিকেটারটি শামার বলে ধরে নিচ্ছেন অনেকেই। আর ২০২৪ সালে ব্রিসবেন টেস্টে অভিষেকেই অবিশ্বাস্য এক স্পেলে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চমক জাগিয়েছিলেন এই পেসার। তাই ‘নায়কের মতো সংবর্ধনা’ বিষয়টিও মিলে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল স্পোর্টসম্যাক্স। বোর্ড সভাপতি কিশোর শ্যালো বলেছেন, ‘ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ এ ব্যাপারে কিছু জানে না, তাই এ ব্যাপারে মন্তব্যও করতে পারবে না।’