১৯ ওভার বাংলাদেশের, ১ ওভার শ্রীলঙ্কার

শেষ ওভারে দাসুন শানাকার চার-ছক্কাগুলো কি ম্যাচ ঘুরিয়ে দিল? শঙ্কা থেকেই যায়! 

শরীফুল ইসলামের করা ওই ওভারের আগের ২০ বলে শ্রীলঙ্কা কোনো বাউন্ডারি পায়নি, শ্রীলঙ্কার রান তখনো ১১০। কিন্তু দুটি করে ছক্কা আর চারে শানাকা সে ওভারে ২২ রান তুলে শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কাকে ১৩২ রানে পৌঁছে দেন।
 
পিচ রিপোর্টের সময়ে শ্রীলঙ্কার ফারভিজ মাহারুফ বলছিলেন, এই পিচ বেশ কিছুদিন ব্যবহৃত হয়নি। তিনি যদিও ১৬০-কে ‘পার স্কোর’ ধরেছিলেন, তবে ইনিংসজুড়ে বাংলাদেশের বোলিংয়ের সময়ে পিচ দেখে মনে হয়েছে, এই পিচে ১৪০ রানও লড়াই করার মতো স্কোর হয়ে দাঁড়াতে পারে। কলম্বোতে আজ সিরিজনির্ধারণী তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়া শ্রীলঙ্কাকে শেষ পর্যন্ত ১৩০-এর ঘরে নিয়ে গিয়ে লড়াই করার দারুণ মঞ্চ তৈরি করে দিলেন। 

অথচ ওই ওভারের আগে ইনিংসটা যেন বাংলাদেশের ইচ্ছেমতোই এগিয়েছে। আগের দুই ম্যাচে বসে থাকার পর আজ সুযোগ পাওয়া সহ-অধিনায়ক শেখ মেহেদী বল হাতে দেখালেন, টি-টোয়েন্টিতে নতুন বলে তিনি বাংলাদেশের বড় অস্ত্র হওয়ার সব যোগ্যতাই রাখেন। টানা ৪ ওভার করা শেখ মেহেদীর ওভার শেষ হয়ে গেল ইনিংসের প্রথম ভাগেই, তাতেই ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার পেয়ে গেলেন মেহেদী – ৪ ওভারে ১১ রানে ৪ উইকেট। এই চার ওভারের শেষটিতে আবার উইকেট মেডেন নিয়েছেন মেহেদী। 

স্বাগতিকদের পঞ্চাশ রান পার হওয়ার আগেই বাংলাদেশ ৪ উইকেট তুলে নেয়, যেখানে শেখ মেহেদী নেন ৩ উইকেট। ৪৯ রানে ৪ উইকেট হারানো লঙ্কানরা এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। মেহেদী-রিশাদদের স্পিনে ব্যর্থ লঙ্কান মিডল অর্ডার কোনো রকমে এক শ রান পার করেছিল, এরপর এল শানাকার শেষের ওভারের ঝড়। 

ইনিংসের প্রথম ওভারেই ওপেনার কুশল মেন্ডিসকে হারায় স্বাগতিকরা। শরীফুল ইসলামের প্রথম ওভারের প্রথম দুই বলেই নিশাঙ্কা চারের পর তিন রান নিয়ে শুরু করেছিলেন, তবে ওভারের শেষ বলে থার্ড ম্যান অঞ্চলে মাত্র ৬ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মেন্ডিস। দলীয় ১৪ রানে প্রথম উইকেটের পতনের পর লঙ্কানদের চেপে ধরেন স্পিনার শেখ মেহেদী।
 
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে কুশল পেরেরাকে গোল্ডেন ডাকে ফেরানোর পর থেকেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে যান মেহেদী। দ্বিতীয় ওভারে পেরেরাকে ফেরানোর পর নিজের প্রতি ওভারে এসেছেন আর একটি করে উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের এই স্পিনার। মাঝে অবশ্য তৃতীয় ওভারে শরীফুলের বলে নিশাঙ্কা আর চান্ডিমালের ক্যাচ মিস হয়েছে, যদিও দুটি ক্যাচের কোনোটিই একেবারে সহজ ছিল না।  

পেরেরার পর পাওয়ার প্লেতে চান্দিমাল ও ইনিংসের অষ্টম ওভারে চারিথ আসালাঙ্কাকে ফিরিয়ে লঙ্কানদের কোণঠাসা করে দেন মেহেদী। ৪৯ রানে ৪ উইকেট হারানো লঙ্কানদের তখনও ভরসা হয়েছিলেন ওপেনার পাতুম নিশাঙ্কা। সঙ্গে কামিন্দু মেন্ডিসও কিছু রান পেয়েছেন। তবে ইনিংসের ১১তম ওভারে নিজের শেষ ওভার করতে আসা মেহেদী নিসাঙ্কার (৩৯ বলে ৪৬) উইকেটটা তুলে নেন। আর ১৪তম ওভারে কামিন্দুকে (১৫ বলে ২১) ফেরান শামীম।
  
দলীয় ৮৮ রানে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে কামিন্দুর বিদায়ের পর দ্রুত অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে শ্রীলঙ্কা। তবে এক প্রান্ত থেকে আসা যাওয়ার মিছিল শুরু হলেও দাঁড়িয়েছিলেন অলরাউন্ডার শানাকা। শেষ পর্যন্ত তাঁর ২৫ বলে ৩৫ রানের ইনিংসটাই হয়ে দাঁড়াল শ্রীলঙ্কার ১২০-এর জায়গায় ১৩০-এর ঘরে যাওয়ার ব্যবধান।