দুর্নীতির দায়ে নিষিদ্ধ সোহাগই দোষী জানিয়ে দায়মুক্ত বাফুফে

গত ১৪ এপ্রিল ফিফা দুর্নীতির দায়ে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগকে। এর প্রায় ছয় মাস পর আজ এ নিয়ে নিজেদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ফিফার প্রতিটি অভিযোগের সঙ্গে নিজেরা একমত জানিয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে সোহাগকে দোষী জানিয়ে দায়মুক্ত হলো বাফুফে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বাফুফে সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদসহ সাত সদস্যের সই করা ৯ পাতার প্রতিবেদন আজ প্রকাশ করেছে বাফুফে। সেখানে শেষে মন্তব্যে বলা হয়েছে, প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ প্রধান নির্বাহী অর্থাৎ প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সে হিসেবে বাফুফের যাবতীয় কর্মকান্ডের সকল দায়-দায়িত্ব তাঁর ওপর বর্তায় এবং বাফুফের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রশাসনিক ও হিসাবরক্ষণ ও পরিচালনার সমস্ত দায়-দায়িত্বও তাঁর।  

ফিফার সব অভিযোগ এবং তদন্তের সঙ্গে তাঁরাও একমত জানিয়ে বাফুফের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘ফিফার উল্লেখিত রিপোর্টে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা আছে যে, যেসব অভিযোগ তদন্ত করেছেন এবং তদন্তে যেসব ভুল-ভ্রান্তি রয়েছে, টেন্ডার বা কোটেশন প্রক্রিয়ায় যেসব অনিয়ম রয়েছে এবং তাদের মতে যে সব অবৈধ কাগজপত্র বা ডকুমেন্ট টেন্ডারের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে, তার প্রধান মদদদাতা ও নির্দেশনাকারী হিসেভে প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ আবু নাইম সোহাগকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর মাধ্যমেই চিহ্নিত মালামাল সরবরাহকারীদের কোটেশন আহ্বান, ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া এবং সর্বোপরি বিল পরিশোধ করা হয়েছে, সেহেতু সমস্ত দায়-দায়িত্ব তাঁর এবং সমস্ত প্রক্রিয়ায় তিনি নিজে জড়িত। ফিফার প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে আমরাও একমত।’

সোহাগের পাশাপাশি অবশ্য বাফুফের ম্যানেজার অপারেশন মিজানুর রহমান, অ্যাসিসটেন্ট হেড অব ফিন্যান্স অনুপম সরকার ও চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার আবু হোসেন, গ্রাসরুট ম্যানেজার হাসান মাহমুদ ও ম্যানেজার (কম্পিটিশন) জাবের বিন তাহের আনসারিরও শাস্তির সুপারিশ করেছে বাফুফের তদন্ত কমিটি।

ফিফার অভিযোগ ছিল, ২০২০ সালে বাফুফের আবাসিক ক্যাম্পের জনয় ক্রীড়া সরঞ্জাম ক্রয় (২৫ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকার), ২০১৯-২০ মৌসুমের লিগের খেলার জন্য ফুটবল কেনা (১২ লাখ টাকা), ২০১৯ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে জাতীয় দলের ওমান যাওয়ার বিমানের টিকিট কেনা (১৬ লাখ ৮৬ হাজার ৩০০ টাকা) ও একটি ঘাস কাটার মেশিন কেনার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে।