গতকাল চমকে দেওয়া এক বিবৃতি দিয়েছে বাফুফে। দেশের ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা এক বছরের জন্য সব ধরনের ফুটবল কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছে বিকেএসপিকে। তৃতীয় বিভাগ ফুটবলে খেলোয়াড় নিবন্ধনে অনিয়ম এবং এ ব্যাপারে সতর্ক করার পরও দ্বিতীয় বিভাগে তেমন একজন খেলোয়াড় নামানোয় এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাফুফে।
বাফুফের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে জানিয়েছে বিকেএসপি কর্তৃপক্ষ।
গতকাল বাফুফের বিবৃতিতে জানানো হয়, গত আগস্টে অনূর্ধ্ব-১৭ তৃতীয় বিভাগ ফুটবল লিগে চকবাজার কিংস ক্লাবের সঙ্গে বিকেএসপির একটা চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী বিকেএসপির তিন ফুটবলারের চকবাজারের হয়ে খেলার কথা ছিল। নাইমুর রহমান, হাসান মিয়া ও মোহাম্মদ জিফাতের নামে নিবন্ধন হলেও তাদের নাম ব্যবহার করে খেলেছে বিকেএসপির অন্য তিন খেলোয়াড়- মোহাম্মদ তাসিন সাহেব, ইহসান হাবিব ও মোহাম্মদ রিফাত কাজী।
এদিকে বিকেএসপি দ্বিতীয় বিভাগে খেলে। সেখানে খেলোয়াড় নিবন্ধনের সময় তাসিন, ইহসান ও রিফাত তাদের আসল নাম ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে গেলে ব্যাপারটা বাফুফের নজরে আসে। তখন এই তিনজনকে বিকেএসপির হয়ে দ্বিতীয় বিভাগে না খেলানোর নির্দেশনা দেয় বাফুফে, কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয় তাদের।
কিন্তু ইকরামুল ইসলাম নামে আরেক খেলোয়াড়ও অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্টে তাহসান হোসেন নামে নিবন্ধন করেছিল বলে জানা গেছে। ইকরামুল দ্বিতীয় বিভাগে খেলেছে বিকেএসপির হয়ে। এই ব্যাপারে গত ২৪ নভেম্বর দ্বিতীয় বিভাগ লিগে বিকেএসপি-আরামবাগ ফুটবল একাডেমির ম্যাচের পর আরামবাগ প্রতিবাদ জানিয়ে বিষয়টা বাফুফের নজরে আনে। এরপরই নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানার শাস্তি দিয়েছে বাফুফে।
এ ব্যাপারে বিকেএসপির দুই প্রশিক্ষক রবিউল ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক শাহীনুল হক জড়িত থাকায় তাদের এক বছরের নিষেধাজ্ঞা ও চার খেলোয়াড়কে ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে বিকেএসপির অবস্থান জানতে চাওয়া হলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির সঙ্গে কথোপকথনে বিকেএসপির প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক কর্নেল মো: মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাফুফের সিদ্ধান্তের বিপরীতে আপিল করা হবে। ব্যক্তির (খেলোয়াড়-কোচ) জন্য প্রতিষ্ঠান তো শাস্তি পেতে পারে না।’
বিবৃতিতে বাফুফে জানিয়েছে, তথ্য গোপন করে তৃতীয় বিভাগে খেলা এই তিনজনের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞার পরও সতর্ক হয়নি বিকেএসপি। এ অভিযোগ মানতে রাজি নন বিকেএসপির প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক, ‘ওরা যে তিনজনের কথা আমাদের বলেছিল, ওই তিনজনকে তখনই বাদ দিয়েছি। ওই তিনজনকে আমরা খেলাইনি। কিন্তু চতুর্থ যে ছেলের ব্যাপারে তারা বলছে, ওকে কিন্তু বাফুফে ছাড়পত্র দিয়েছে বলেই আমরা খেলিয়েছি। ক্লিয়ারেন্স না দিলে তো আমরা খেলাতাম না।’
কর্নেল মো: মিজানুর রহমান বলেন, বাফুফের চিঠিতে নির্দিষ্ট করে শুধু তিনজনের নামই বলা হয়েছিল, ‘বাফুফের চিঠিতে ওই তিনজনের ব্যাপারেই আপত্তি ছিল।’ বিকেএসপি বাফুফের নির্দেশনা মেনেছে বলেই দাবি তাঁর, ‘যে তিনজনের ব্যাপারে অভিযোগ ছিল, সে তিনজনকে আমরা দল থেকে বাদ দিয়েছি। আর চতুর্থ ছেলেটার ব্যাপারে বলা হচ্ছে, তাকে কিন্তু ওদের কমিটিই আইডি কার্ড দিয়েছে দ্বিতীয় বিভাগ খেলার জন্য। আইডি কার্ড দেওয়াতেই তাকে খেলিয়েছি। কিন্তু পরবর্তীতে তারা বলেছে, ওকেও চকবাজার কিংস নিবন্ধন করেছিল। যখনই বলেছে, চকবাজার কিংস ওকে নিবন্ধন করেছে, তার পরের ম্যাচ থেকেই আমরা বাদ দিয়েছি।’
ঘটনায় শুধু খেলোয়াড় নয়, বিকেএসপির দুই কোচও জড়িত। বাফুফেকে তিন শিক্ষার্থী জানিয়েছে বিকেএসপির প্রশিক্ষক কোচ রবিউল ইসলাম নিজেই চকবাজারের কোচ ছিলেন। চকবাজারের প্রধান কোচ ও ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন বিকেএসপিরই জ্যেষ্ঠ ফুটবল কোচ শাহীনুল হক। সে কারণে বাফুফে মনে করছে তিন খেলোয়াড়ের তথ্য গোপনের অপরাধের দায় এ দুই কোচ এড়াতে পারেন না।
এ ব্যাপারে বিকেএসপি কী ব্যবস্থা নেবে তা জানতে চাওয়া হলে কর্নেল মো: মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রথমে বাফুফের ব্যাপারটা সামলাব। এরপর প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’