ব্রাজিলকে নিষিদ্ধ করার হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠাল ফিফা

এ মাসের শুরুর দিকেও ব্রাজিলের ফেডারেশনকে চিঠি পাঠিয়েছিল ফিফা ও কনমেবল। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার পাশাপাশি লাতিন ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের সে চিঠির উদ্দেশ্য ছিল হুঁশিয়ারি দেওয়া। ব্রাজিলের ফুটবল ফেডারেশনে দেশটির সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগের পর ফিফা ও কনমেবল জানিয়েছিল, এমন হস্তক্ষেপের প্রমাণ পেলে তারা ব্যবস্থা নেবে। 

সে সময়ে তদন্ত শুরু করেছিল সংগঠন দুটি। এরপর আজ আবার ব্রাজিলের ফেডারেশনকে (সিবিএফ) চিঠি পাঠিয়েছে ফিফা। কিছু নির্দেশনা আছে চিঠিতে। এর পাশপাশি চিঠিতে সরাসরিই বলা হয়েছে, তাদের নির্দেশনা না মানলে ব্রাজিলকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষিদ্ধ করার মতো সিদ্ধান্তও নিতে পারে ফিফা। 

ব্রাজিলের ফেডারেশনের ঝামেলা কী? মূলত বোর্ডের প্রশাসনিক জটিলতা গড়িয়েছে আদালতে, এর জেরে ব্রাজিলের আদালত গত ৭ ডিসেম্বর সিবিএফ প্রধানের পদ থেকে অপসারণ করে এদনালদো রদ্রিগেসকে। ২০২২ সালে যে নির্বাচনে জিতে রদ্রিগেস সিবিএফের সভাপতি হয়েছেন, সেটি বাতিল করে ৩০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন দেওয়ার নির্দেশনাও দেন আদালত।

 

 কিন্তু ফিফা আজ চিঠিতে ব্রাজিলকে নির্দেশনা দিয়েছে, আদালতের নিয়োজিত কমিটির অধীনে তড়িঘড়ি করে নির্বাচন না দিয়ে আপাতত অপেক্ষা করুক সিবিএফ। এখনই রদ্রিগেসকে অপসারণের উদ্দেশ্যে নির্বাচন আয়োজন না করুক। কিন্তু এ নির্দেশনার পরও যদি ব্রাজিলের ফেডারেশনে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়? সে ক্ষেত্রে ফিফার হুঁশিয়ারি, ব্রাজিলকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে, ব্রাজিলের ক্লাবগুলোও সেক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে খেলার সুযোগ পাবে না।
 
ফিফা সব সময়ই তার সদস্য দেশগুলোর ফেডারেশনে সরকারের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে। আজ সিবিএফকে পাঠানো ফিফার চিঠিতে তারা বলেছে, সিবিএফের ক্ষেত্রে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর আদালতের এই রায় তাদের চোখে অযাচিত। 
 
চিঠিতে ফিফার চিফ অ্যাসোসিয়েশন অফিসার কেনি-জঁ-মারির পাশাপাশি সই আছে কনমেবলের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারে মন্তেসেরাত হিমেনেস গার্সিয়ার। আগামী ৮ জানুয়ারি ব্রাজিলে এই ব্যাপার নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যে একটি কমিশন গঠন করা হবে বলে চিঠিতে জানিয়েছে ফিফা ও কনমেবল। 
 
এ থেকে ধরে নেওয়া যায়, কনমেবলও ফিফার সুরেই সুর মিলিয়েছে। এতে আগামী বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া কোপা আমেরিকায় ব্রাজিলের অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা জেগেছে। 
 
আর রদ্রিগেসকে সরানো হলে রেয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে ব্রাজিলের কোচ হিসেবে পাওয়াও শঙ্কার মুখে পড়বে। আনচেলত্তিকে কোচ করে পাওয়ার পথে যত দৌড়ঝাঁপ তো রদ্রিগেসই করেছেন!