সভাপতির মেয়াদ বাড়ানোর পাঁয়তারা দেখে প্রতিবাদে ছাড়লেন নিজের পদ  

এমনিতেই ইউরোপিয়ান সুপার লিগ নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে উয়েফা। রেয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা উঠেপড়ে লেগেছে উয়েফার টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগকে বাদ দিয়ে সুপার লিগকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। সে চ্যালেঞ্জ নিয়ে এমনিতেই ঘেমে নেয়ে ওঠার দশা উয়েফার। ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এর মধ্যে আজ খেল আরেক ধাক্কা - হঠাৎ পদত্যাগ করেছেন উয়েফার চিফ অব ফুটবল জোনিমির বোবান।

তাঁর চাকরি ছাড়া বড় খবর, তবে তার চেয়েও বেশি আলোচনা-বিতর্কের খোরাক জোগাচ্ছে বোবানের চাকরি ছাড়ার কারণের ব্যাখ্যা। বোবান পদত্যাগ করেছেন উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দর সেফেরিনের নিজের মেয়াদ বাড়ানোর পাঁয়তারা দেখে।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি প্যারিসে হতে যাওয়া সভায় সংগঠনের সভাপতি ও নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সংবিধানে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা ছিল উয়েফার, সে পরিকল্পনায় সায় ছিল সেফেরিনের। ওই পরিবর্তন এলে আবার নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতেন সেফেরিন। তাঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালে।

এ পাঁয়তারা দেখে আর বোবা থাকতে চাইলেন না বোবান। অনুচ্চারে আওয়াজ তুলেছেন। ক্রোয়েশিয়ান ওয়েবসাইট তেলেস্পোর্তে খোলা চিঠিতে আজ পদত্যাগের ঘোষণায় বোবান লিখেছেন, ‘আমি দুঃখিত, কষ্টও পাচ্ছি। কিন্তু আমি উয়েফা ছাড়ছি।’  

উয়েফার বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সংগঠনের সভাপতি ও নির্বাহী কমিটির সদস্যরা তিনবার নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন, ১২ বছরের বেশি থাকতে পারেন না উয়েফার পদে।

২০১৬ সালে প্রথমবার উয়েফার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন সেফেরিন। গত বছর এপ্রিলে পুন:নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায়। ফিফা ও উয়েফায় দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের ঝড়ে মিশেল প্লাতিনি সরে যাওয়ার পর চেয়ারটাতে বসেছেন সেফেরিন, সে সময়ে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারের একটা বড় প্রতিশ্রুতিই ছিল যে, উয়েফায় সভাপতি ও বোর্ডের নির্বাহী কমিটির কেউ তিনবারের বেশি নির্বাচনে দাঁড়াতে না পারার অথবা ১২ বছরের বেশি এক পদে থাকতে না পারার নিয়ম করা হবে।

২০১৭ সালের এপ্রিলে সে নিয়ম পাশ করাও হয়েছে। এখন সে নিয়ম নিজেই ভেঙে সেফেরিন আবার নির্বাচনে দাঁড়াতে চান দেখে বোবান অবাক, ‘আশ্চর্যজনকভাবে, সেফেরিনই ছিলেন সেই ব্যক্তি যিনি উয়েফা ও ইউরোপিয়ান ফুটবলকে বাঁচানোর স্বার্থে ২০১৭ সালে (উয়েফার সংবিধানে) সংশোধনের প্রক্রিয়ার শুরু করেছিলেন। সেই মূল্যবোধ থেকে তাঁর এভাবে সরে আসা এবং (২০১৭ সালের) মূল সংশোধনীগুলোকেই আবার বদলানোর এই চেষ্টার কারণ বোঝা কষ্টসাধ্য। তারওপর সময়টা এখন এমন যেখানে ইউরোপের ফুটবলে সংকটের একটা সময় চলছে।’

নিজে চুপচাপ সব মেনে না নেওয়ার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বোবান, ‘এই কঠিন ও ভুল একটা সিদ্ধান্ত আমি মেনে নিলে, মাথা নুইয়ে নিলে, সেটা আমার নিজের মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যাওয়া হতো। আমি এখানে কোনো নায়কের ভূমিকা নিচ্ছি না। এটা ভালোভাবেই জানি যে আরও অনেকেই আমার মতো করে ভাবছেন। হয়তো এমন ভাবনা একটু বেশিই সরল, তবে অবশ্যই সঠিক।’  

যুগোস্লাভিয়া এবং সেটি ভেঙে যাওয়ার পর ক্রোয়েশিয়ার জাতীয় দলের মাঝমাঠে নব্বইয়ের দশকে আলো ছড়িয়েছেন বোবান, ক্লাব ফুটবলে এসি মিলানের জার্সিতে চারবার লিগের পাশাপাশি একবার জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ। খেলা ছাড়ার পর প্রশাসনিক দিকে জড়িয়ে গেছেন। ২০১৬ সাল থেকে ফিফায় কাজ করেছেন ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে, সে চাকরি ছেড়ে ২০১৯-এর মাঝামাঝিতে পাওলো মালদিনির সঙ্গে কাজ করতে যোগ দেন এসি মিলানে। কিন্তু ক্লাবের প্রধান নির্বাহীর সমালোচনা করায় ২০২০ সালের মার্চে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। এর বছরখানেক পর উয়েফায় যোগ দেন বোবান।