ঘরের মাঠে তিন পেনাল্টিতে জর্ডানের স্বপ্ন ভাঙল কাতার

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান ৮৭। কিন্তু তাতে কী? এএফসি এশিয়ান কাপে রীতিমতো উড়ছিল জর্ডান। নিজেদের চেয়ে শক্তিমত্তায় যোজন যোজন এগিয়ে থাকা দক্ষিণ কোরিয়াকে সেমিফাইনালে হারিয়ে প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছিল হোসাইন আমাউতার শিষ্যরা। কিন্তু ফাইনালে স্বাগতিক কাতারের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরে থেমেছে জর্ডানের স্বপ্নযাত্রা।

জর্ডানকে হতাশ করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপাৎসব করেছে কাতার। দোহার লুসাইল স্টেডিয়ামে এদিন উপস্থিত ৮৬ হাজার ৪৯২ জন দর্শকের সামনে হ্যাটট্রিক করেছেন আকরাম আফিফ। মজার বিষয়, ২৭ বছর বয়সী কাতার স্ট্রাইকার তিনটি গোলই করেছেন পেনাল্টি থেকে। জর্ডানের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন আল নিয়ামত।

২০১৯ সালের এশিয়ান কাপের ফাইনালে জাপানকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবার শিরোপা ঘরে তুলেছিল কাতার। এবার জর্ডানকে একই ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখেন টিনটিন মার্কুয়েসের শিষ্যরা। দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও জাপানের পর পঞ্চম দল হিসেবে টানা দুবার এশিয়ান কাপ জেতার কীর্তি গড়ল কাতার।

ঘরের মাঠ, সবশেষ আট ম্যাচেই জয় কিংবা র‍্যাঙ্কিংয়ের বিচারে এগিয়ে থেকেই ফাইনালে নেমেছিল কাতার। অন্যদিকে এবারের টুর্নামেন্টে রীতিমতো চমক জাগানো জর্ডানকেও পিছিয়ে রাখার সুযোগ ছিল না। বরং পুরো ম্যাচে বল দখলে এগিয়ে ছিল জর্ডানই। এমনকি কাতারের চেয়ে দ্বিগুণ শট নিয়েছেন নিয়ামত-হাদ্দাদরা।

তবে কাতার গোছানো আক্রমণ করেছে। প্রথম দশ মিনিটেই জর্ডানের গোলমুখে তিনটি শট নেন আফিফ। ম্যাচের ২১ মিনিটে আফিফকে ফাউল করে কাতারকে পেনাল্টি উপহার দেন জর্ডানের ডিফেন্ডার আবদুল্লাহ নাসিব। পেনাল্টি থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে কাতারকে এগিয়ে দেন আফিফ।

খোল খেয়ে মরিয়া হয়ে ওঠে জর্ডান। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুটি সহজ সুযোগ মিস করেন দেশটির স্ট্রাইকার মুসা আল তামারি। ২৬ বছর বয়সী এ রাইট উইংগারের একটি শট কাতারের রক্ষণে প্রতিহত হয়, আরেকটি যায় বারের ওপর দিয়ে।

বিরতির পর ঠিকই ঘুরে দাঁড়ায় জর্ডান। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান নিয়ামত। কিন্তু পাঁচ মিনিট পরেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবারও কাতারের হাতে। পেনাল্টি থেকে কাতারকে আরেকদফা এগিয়ে (২-১) দেন আফিফ।  

ম্যাচের যোগ করা সময়ে আফিফ আক্রমণে উঠলে এগিয়ে আসা জর্ডান গোলকিপারের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ভিএআর চেক করে কাতারের পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি নিং মা। ম্যাচের স্কোরলাইন ৩-১ করেন আফিফ।

আগামী মৌসুমে ইউরোপের কোন ক্লাবে দেখা যেতে পারে আফিসকে। ফাইনালের পরে সে প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ফাইনালের হ্যাটট্রিক হিরো আফিফ, ‘এটা (প্রস্তাব) যেকোনো ক্লাব থেকে আসতে হবে। তারপর আমার স্ত্রীর সঙ্গে বসে এ নিয়ে চিন্তা করব। এ মুহূর্তে আমি কেবল একটা জিনিসই জানি, আমরা টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন।’

কাতার যেমন শিরোপা উৎসবে মেতেছে, অন্যদিকে জর্ডান নিমজ্জিত একরাশ হতাশায়। ফাইনালে হারের পর সমর্থকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে দেশটির অধিনায়ক এহসান হাদ্দাদ বলেছেন, ‘আমাদের সাফল্যের পেছনে সমর্থকদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও আজ তাঁদের হতাশ করেছি।’