আগামী ২১ ও ২৬ মার্চে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচটি হবে কুয়েতে, দ্বিতীয় ম্যাচটি হবে ঢাকায়। সে ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হামজা চৌধুরীর জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
বিশ্বকাপ বাছাইকে সামনে রেখে মার্চের শুরুর দিকে সৌদি আরবে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করার কথা বাংলাদেশের। সে ক্যাম্পেই দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল লেস্টার সিটি মিডফিল্ডারের।
আজ দেশীয় একটি গণমাধ্যম ন্যাশনাল টিমস কমিটির সদস্য আমের খানকে উদ্ধৃত করে সে দাবি করেছে। যদিও সে প্রতিবেদনেই আমের খানের মন্তব্যে ছিল অনিশ্চয়তার সুর, ‘হামজাকে নিয়ে আমরা কাজ করছি, চেষ্টা করছি। দেখি কী হয়। প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ৮০ ভাগ আশাবাদী যে তাকে পেতে পারি। ওদের ওখানেও কিন্তু খেলা চলছে। এখন যদি ব্রেক না পায় তাহলে তো আসতে পারবে না।’ বাফুফের অন্যান্য সূত্রও খবরটিকে অস্বীকার করছে না।
হামজা চৌধুরীর বাংলাদেশ দলে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ নতুন নয়। লেস্টার সিটি যখন সবাইকে চমকে দিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিল, সে দলে খেলা হামজা একদিন বাংলাদেশ দলে খেলবেন, এই স্বপ্ন বাংলাদেশের সব ফুটবলপ্রেমীর। কিন্তু ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলে খেলা হামজার স্বপ্ন ছিল ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা।
যদিও ক্যারিয়ার প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের। ফর্ম হারিয়ে ফেলেছেন। তাঁর দলও প্রিমিয়ার লিগ থেকে বাদ পড়ে এখন চ্যাম্পিয়নশিপে। লেস্টার বর্তমানে লিগে শীর্ষে থাকলেও হামজার গুরুত্ব কমে গেছে দলে।
লিগে মাত্র ৯ ম্যাচে শুরু থেকে খেলেছেন। এর মধ্যে মাত্র তিন ম্যাচে নিজের পজিশনে। বাকি ম্যাচগুলোতে সতীর্থের অনুপস্থিতে ফুলব্যাক হিসেবে খেলতে হয়েছে। চ্যাম্পিয়নশিপের দলেই নিয়মিত একাদশে না থাকা হামজার পক্ষে এখন ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে ঢোকা অসম্ভব।
আর ২০২০ সালের এক সাক্ষাৎকারে হামজা বলেছিলেন আরও দুই বছর ইংল্যান্ড দলে ঢোকার চেষ্টা করবেন। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশের হয়ে খেলার কথা ভাববেন। তাই এতদিন পর বাংলাদেশ দলে তাঁকে দেখার সম্ভাবনা আরও বেড়েছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
বাফুফে যদি হামজার সঙ্গে কথা বলে তাঁকে রাজি করাতে পারতেন, তাহলে তিনি চাইলেই ফিলিস্তিনের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলতে পারতেন। কারণ, ১৮ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ফিফা উইন্ডোতে খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে খেলার ব্যাপারে বাধা ফিতে পারে না তাঁর ক্লাব। কিন্তু অন্য সময় জাতীয় দলে খেলার জন্য ফুটবলারকে ছাড়তে বাধ্য নয় ক্লাব। টানা দুই ম্যাচ হেরে শীর্ষস্থানে থাকা লেস্টার একটু অস্বস্তি পড়েছে। প্রিমিয়ার লিগে ফেরার দৌড়ের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কন্ডিশনিং ক্যাম্পের জন্য স্কোয়াডের কাউকেই ছাড়তে চাওয়ার কথা না লেস্টারের। এমন অবস্থায় হামজার কন্ডিশনিং ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার গুঞ্জনটা বাস্তবসম্মত না।
বাংলাদেশে হবিগঞ্জের বাহুবল থানার স্নানঘাট গ্রামে হামজা চৌধুরীর নানাবাড়ি। বহুবার বাংলাদেশে এলেও বাংলাদেশে জাতীয় দলে তাঁর খেলার চিন্তা এতদিন দূর কল্পনা বলেই মনে হতো।