প্রায় এক বছর আগের ঘটনা। ফ্ল্যামেঙ্গো স্ট্রাইকার গাবিগোল বারবোসার বিপক্ষে ডোপ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর সত্যতা যাচাইয়ে ডোপ পরীক্ষার আওতায় নিয়ে আসা হয় ব্রাজিলিয়ান সেন্টার ফরোয়ার্ডকে। কিন্তু সে পরীক্ষা দিতে গিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে জালিয়াতির আশ্রয় নেন গাবিগোল নামে পরিচিত এই স্ট্রাইকার।
এমনকি ডোপ টেস্টের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে বাজে আচরণ করেন তিনি। ডোপ টেস্টে এমন জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার জন্য গাবিগোলকে ফুটবল থেকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন ব্রাজিলের একটি আদালত।
ব্রাজিলের জার্সিতে ২০১৬ সালে অভিষেকের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ ম্যাচ খেলেছেন গাবিগোল। জাতীয় দলের হয়ে গোলও করেছেন ৫টি। সেলেসাওদের হয়ে শেষবার তাঁকে মাঠে দেখা গিয়েছিল ২০২২ সালের জানুয়ারিতে। যে প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে মূল দলে এসেছিলেন, তার ছিটেফোঁটারও প্রমাণ দিতে পারেননি। তাই ব্রাত্য হয়ে পড়েন জাতীয় দল থেকে। এমন অবস্থায় ২০২৩ সালে তাঁর নামে ডোপ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো জানাচ্ছে, গত সোমবার গ্যাবিয়েলের বিপক্ষে নিষেধাজ্ঞার রায় দিয়েছে দেশটির আদালত। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, গাবিগোল ডোপ টেস্ট নিয়ন্ত্রণে নিতে জালিয়াতি করেছেন অথবা জালিয়াতির চেষ্টা করেছেন। এর অর্থ, ফ্ল্যামেঙ্গো স্ট্রাইকার ডোপ পরীক্ষাকে জটিল করে তুলেছিলেন। ডোট টেস্ট এড়ানোরও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষমেষ পরীক্ষা দিতেই হয়। কিন্তু তাঁর জালিয়াতির জন্য পরীক্ষায় ফলাফল নেগেটিভ আসে!
সোমবারের রায়ে এ বিষয়গুলো সামনে আসে। গ্লোবো আরও জানাচ্ছে, ডোপ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল গত বছরের ৮ এপ্রিল। সেদিন যারা ডোপ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন, গাবিগোলই একমাত্র ফুটবলার, যিনি পরীক্ষা দিতে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করছিলেন। এমনকি ডোপ টেস্টের সকাল ধাপ ও নির্দেশনাবলি ঠিকঠাক মেনে চলেননি গাবিগোল। সেখানকার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সঙ্গেও করেছেন অসৌজন্যজনক আচরণ।
এ ঘটনায় গত সোমবার আদালতে সাতজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর গাবিগোলকে নিয়ে আদালতে জুরিদের ভোট হয়, যেখানে ৫-৪ ব্যবধানে হেরেছেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার।
এদিকে আদালতের রায়ের পর সোমবারই গাবিগোলকে নিয়ে তার ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গো একটি বিবৃতি দিয়েছে। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে সেখানে। গাবিগোল যদি আপিলে হেরে যান, তবে তাঁকে দুই বছর ফুটবলের বাইরে কাটাতে হবে। এ নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল। অর্থাৎ যেদিন ডোপ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন, সেদিন থেকে কার্যকর হবে নিষেধাজ্ঞা।
গ্লোবো আরও জানাচ্ছে, আরও বড় শাস্তির মুখে পড়তে পারতেন গাবিগোল। কারণ ডোপ টেস্টে জালিয়াতির জন্য সর্বোচ্চ চার বছরের শাস্তির বিধান আছে।