বুকে জড়িয়ে বাংলাদেশ, হাতে ফিলিস্তিন

বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার মাঠে প্রবেশ করতে লম্বা লাইন। ঢাকায় বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ফিলিস্তিনের সঙ্গে বাংলাদেশের ফিরতি ম্যাচ। প্রথম পর্বে ৫ গোল খেয়ে হেরেছে বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে নিদেনপক্ষে বাংলাদেশের ড্র-এর প্রত্যাশা নিয়ে হাজার পাঁচেক সমর্থক মাঠে। তবে লম্বা লাইনে মাঠে প্রবেশে অপেক্ষামান ফুটবলপ্রেমীদের গায়ে বাংলাদেশের জার্সি থাকলেও অনেকের হাতে ফিলিস্তিনের পতাকাও দেখা গেল। ‘ফ্রি ফিলিস্তিন’ নিজে হাতে লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়েও হাজির হয়েছেন কেউ কেউ। মাঠের বাইরের পরিস্থিতি দেখলে যে কেউ মনে করতে পারেন, স্বাগতিক দেশ হিসেবেই খেলছেন ফিলিস্তিন। বাংলাদেশের জয়ের চাওয়া নিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে গণজাগরণ তৈরি হয়েছে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়।

ফিলিস্তিনি শিশুদের নির্বিচার হত্যা দেখে বিচলিত, অক্ষম ক্রোধে বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছেন - এমন মানুষের সংখ্যাই দুনিয়াতে বেশি। ফিলিস্তিনের জনগনের পক্ষে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের মানুষও নানাভাবে সমর্থন দিচ্ছেন। আর খেলা যদি হয় ফিলিস্তিন দলের, তাহলে তো কথাই নেই। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের সুযোগ ছিল ফিলিস্তিনি ফুটবলারদের সামনে তাদের দেশকে সমর্থন জানানোর। কিংস অ্যারেনার মাঠে তাই বাংলাদেশের নামে তো চিৎকার উঠেছেই, পাশাপাশি চিৎকার উঠেছে ‘ফ্রি ফিলিস্তিন’ ধ্বনিতেও। সাধ্য অনুযায়ী নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াচ্ছে সবাই।

গ্যালারিতে বাংলাদেশের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পতাকারও ছিল সগৌরব উপস্থিতি। ছবি: লেখক

ফিলিস্তিন ও বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ সহযোগিতার হাত বাড়াচ্ছে টি স্পোর্টসও। দুটি ম্যাচ দেখতে তাদের অ্যাপসে যারা সাবস্ক্রিপশন করবেন, তাদের কাছ থেকে পাওয়া টাকা যাবে ফিলিস্তিনে। এছাড়া টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থও যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের শিশুদের দান করা হবে।

বাংলাদেশি বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে খেলা দেখতে আসেন বাংলাদেশে পড়ুয়া ফিলিস্তিনের চার শিক্ষার্থী। তাঁরা জানান, ‘ফিলিস্তিনে আমাদের আপনজনরা সবাই বিপদের মধ্যে আছে। সারা বিশ্ব থেকে প্রতিবাদ হলেও ইসরাইল তাদের হামলা বন্ধ করছে না। বাংলাদেশ সব সময় ফিলিস্তিনের পাশে ছিল। আজ মাঠে বাংলাদেশের সমর্থকরা সেটা আবারও প্রমাণ করল।’

ফিলিস্তিনের বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে এসেছেন জাহিদ হোসাইন নামে এক শিক্ষার্থী। তাঁর হাতেও ফিলিস্তিনের পতাকা। ‘আমি চাইছি আজকের খেলায় বাংলাদেশ ভালো খেলুক। মাঠে বাংলাদেশের সাপোর্ট করলেও ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে জানান দিতে চাই, আমরা তোমাদের পাশে আছি’ – বললেন জাহিদ।

এক বন্ধুর কাঁধে বাংলাদেশের পতাকা, আরেক বন্ধু কাঁধে ফিলিস্তিনের পতাকা বাঁধা। গ্যালারিতে বসে কিছু সময় পর পর ‘ফ্রি ফিলিস্তিন’ বলে চিৎকার করছেন দুই বন্ধু। ‘যে যার অবস্থান থেকে ফিলিস্তিনের শিশুদের পক্ষে থাকা উচিত। ফিলিস্তিনে যা হচ্ছে এটি হত্যাকাণ্ড। এর বিচার হওয়া উচিত। আমরা দুই বন্ধু বাংলাদেশকে ভালোবাসি। কিন্তু একই সঙ্গে চাই ফিলিস্তিনে এ হত্যাকাণ্ড বন্ধ হোক’ – বলেছেন তাঁদের একজন।

দুই বন্ধুর একজনের গায়ে বাংলাদেশের পতাকা, আরেকজনের গায়ে ফিলিস্তিনের। ছবি: লেখক

ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময়েই ভিআইপি গ্যালারিতে ফিলিস্তিনের পকাতা উড়তে দেখা গেছে। খেলা শেষে হামজা ইব্রাহিম নামে এক ফিলিস্তিনির সঙ্গে কথা হয়। তিনি জয়ের অনুভুতি জানাতে গিয়ে বলেন, ‘মানবিক সংকটে রয়েছে গাজা। প্রতিদিনই মানুষ মরছে সেখানে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খেলার মধ্য দিয়েই ফিলিস্তিনের মানুষ আনন্দ খোঁজে। এই ম্যাচের জয়টা একটু হলেও গাজার মানুষকে আনন্দ দেবে।’

ভালো খেলেও যোগ করা সময়ের গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। মাঠে ফিলিস্তিন প্রতিপক্ষ হলেও গ্যালারিতে সমর্থন দিয়ে ঠিকই ফিলিস্তিনিদের মন জয় করে নিয়েছে বাংলাদেশ।