১২ নয়, ধর্ষণের শাস্তিপ্রাপ্ত বন্ধুকে পৌনে ২ কোটি টাকা দিয়েছিলেন নেইমার

গত ফেব্রুয়ারিতে স্পেনের আদালত সাড়ে চার বছরের জেলের সাজা দিয়েছিলেন বার্সেলোনার সাবেক ব্রাজিলিয়ান রাইটব্যাক দানি আলভেসকে।

তবে শাস্তি পাওয়ার দুই মাসের মধ্যেই জামিন পেয়ে গেছেন আলভেস। এতদিন জানা গিয়েছিল, বার্সেলোনার আদালত ১০ লাখ ইউরো জরিমানার বিনিময়ে আলভেসকে জামিন দিয়েছেন। সে অর্থটা আবার নেইমারের কাছ থেকে ধার করেছিলেন তিনি। তবে এখন শোনা যাচ্ছে ১০ লাখ না, নেইমারের কাছ থেকে দেড় লাখ ইউরো ধার করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফুলব্যাক।

আলভেসের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে বার্সেলোনার এক নাইটক্লাবে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। ১৩ মাস ধরে মামলার তদন্ত শেষে শাস্তি পেয়েছেন আলভেস। এই পুরো সময়টা জেলেই ছিলেন। তবে রায়ের পর তাঁকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছিল আদালত।

পাসপোর্ট জমা দিতে হয়েছে তাঁকে, যেন জামিন পেলেও স্পেন ছাড়তে না পারেন। প্রতি সপ্তাহে একবার করে আদালতে হাজিরা দিতে হবে। এবং ভুক্তভোগীর ১ কিলোমিটারের মধ্যেও যেতে পারবেন না তিনি। সে সঙ্গে অর্থ দণ্ডও ছিল। এ নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন বাদীর আইনজীবী। কিন্তু আদালত তবু মুক্তি দিয়েছেন আলভেসকে।

মামলার খরচ চালাতে গিয়ে আর্থিক সমস্যায় পড়া আলভেস তখন জামিনের অর্থ দিতে পারছিলেন না বলে নেইমার তাঁর বাবার মাধ্যমে এই অর্থ প্রদান করেছেন বলে শোনা গিয়েছিল। ব্রাজিল ছাড়াও বার্সেলোনা ও পিএসজিতে একসঙ্গে খেলা এই দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক।

তবে নেইমারের বাবা সে খবর অস্বীকার করেন। আলভেসের আইনজীবী ইনেস গার্দিওলা জানিয়েছেন, জামিন পেয়েই নেইমারের বাবাকে টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন আলভেস। তবে অংকটা দেড় লাখ ইউরো (১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা)।  মামলার আইনি খরচ চালানোর জন্য এই অর্থ সাহায্য করেছিলেন নেইমাররা।

আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন আলভেস, আর আপিলের ফল পাওয়ার সময়টা জেলে কাটাতে না চাওয়াতেই ১০ লাখ ইউরোর শর্ত মেনে বেড়িয়ে এসেছেন। এবং জানা গেছে, নেইমার না দিলেও আলভেসকে ঠিকই অর্থ সাহায্য নিতে হয়েছে। আলভেসের জীবনের গল্পের সত্ত্ব কিনে নিয়েছে তারা, এর বিনিময়েই জামিনের টাকা দিয়েছে ম্যাগাজিনটি।

জেল থেকে বের হয়েই পার্টি দিয়েছেন আলভেস। এবং ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে ছেড়ে চলে যাওয়া স্ত্রীর সঙ্গে মিটমাটও নাকি করে নিয়েছেন। এল পাইস বলছে, মামলার কারণে, আলভেসের আর্থিক সম্পদে টান পড়েছে। ফলে ৪০ বছর বয়সী আপিলে জিতলে অবসর ভেঙে আবার খেলায় ফেরার চিন্তা করছেন।