‘মাথা খাটাতে’ গিয়ে নিজেদের পায়ে কুড়াল মারল ইতালি

ইউরো শুরু হওয়ার আগেই জানা ছিল, গ্রুপ অব ডেথে লড়তে যাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইতালি। গ্রুপ ‘বি’তে গতকাল স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে ইতালির দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়াই পড়ে গেছে ঝুঁকিতে। 

শুধু তা-ই নয়, ইতালির খেলায়ও প্রাণ নেই। গতকালের ম্যাচেই যেমন, স্কোরলাইন দেখে লড়াই হয়েছে মনে হলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করেছে স্পেন। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ইতালিয়ান ডিফেন্ডার রিকার্দো কালাফিওরির আত্মঘাতী গোলে স্পেন জিতেছে, তবে এই ম্যাচ দেখেছে ছন্নছাড়া এক ইতালিকে। 

ইতালির ইউরো যাত্রা শুরু হয়েছে নিজেদের প্রথম ম্যাচের প্রথম মিনিটে গোল খেয়ে। আলবেনিয়ার বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও সে ম্যাচে ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল, আর গতকাল তো হেরেই গেল। তবে এই হারে এক রেকর্ড ফিরেছে, যা আবার ইতালিকে স্বপ্নও দেখাবে!  

রেকর্ডটা কী? কালাফিওরির আত্মঘাতী গোলটা ২০০৬ বিশ্বকাপে ক্রিস্তিয়ান জাকার্দোর পর ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে বড় টুর্নামেন্টে কোনো ইতালিয়ান খেলোয়াড়ের প্রথম! ১৮ বছরের পুরোনো রেকর্ড ফেরানোর দিনে ইতালি আরো একটি ভুলে যাওয়ার মতো রেকর্ডে নিজেদের নাম লিখিয়েছে। গতকাল স্পেনের বিপক্ষে গোল করার জন্য মাত্র চারটি শট নিতে পেরেছিল ইউরোর বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। যা ১৯৮০ সালের পর আজ্জুরিদের বিশ্বকাপ এবং ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে কোনো ম্যাচে সবচেয়ে কম শটের রেকর্ড। 

এমন রেকর্ড গড়ার দিনে ইতালির ঢাল হয়ে গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা দাঁড়িয়েছিলেন বলে মুখরক্ষা! ম্যাচের ১৫তম মিনিটে হলুদ কার্ড পেলেও পুরো ম্যাচে ইতালিকে বড় ব্যবধানের হার থেকে বাঁচিয়েছেন দোন্নারুম্মা। 

প্রথম ম্যাচে মাত্র ২৩ সেকেন্ডে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়া ইতালি গতকাল স্পেনের বিপক্ষে তৃতীয় মিনিটেই পিছিয়ে পড়তে পারত। তবে বক্সের ভেতর পেদ্রির হেড ফিরিয়ে দেন দোন্নারুম্মা। ১১তম মিনিটে স্পেনের গোল না পাওয়া তো চোখ ধাঁধানো মিসে! মোরাতার অ্যাসিস্টে পোস্টের ৩-৪ গজ দূর থেকে প্রায় ফাঁকায় দাঁড়িয়ে হেড করেও নিকো উইলিয়ামস কীভাবে বলটা বাইরে পাঠিয়েছেন, সে এক আশ্চর্য বটে! 

প্রথমার্ধে গোলের জন্য মাত্র একটি শট নেয় ইতালি। অপরদিকে স্পেন ৯টি শট নিলেও গোলের দেখা পায়নি। বিরতি থেকেই ফিরেই বদলে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। ৫৫তম মিনিটে ডি বক্সের বাইরে বাঁ দিক থেকে নিকো উইলিয়ামস বক্সের ভেতর ক্রস বাড়ান মোরাতার দিকে, বল মোরাতার মাথা ছুঁয়ে কালাফিওরির পায়ে লেগে ঢোকে ইতালির জালে। 

ইতালি এরপর কিছু চেষ্টা করেও গোল পায়নি। উল্টো ব্যবধান বাড়াতে পারত স্পেন, কিন্তু লামিন ইয়ামাল, পেদ্রিদের আক্রমণ ফিরিয়ে দেন ইতালিয়ান গোলরক্ষক। পুরো ম্যাচে দোন্নারুম্মার ৮টি সেভ দলের বড় হার ঠেকিয়েছে। পুরো ম্যাচে স্পেনের ২০ টি শটের বিপরীতে ইতালি কেবল ৪টি শট নিয়েছে। 

দুই ম্যাচে দুই জয়ে গ্রুপ বি'তে শীর্ষে স্পেন। এক জয় ও হারে দ্বিতীয় স্থানে ইতালি। একটি ড্র ও এক হারে তৃতীয় স্থানে আছে আলবেনিয়া। গ্রুপের শেষ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ইতালি না হারলে, ওদিকে স্পেন যদি আলবেনিয়ার কাছে হেরে না যায়, তাহলে অবশ্য শেষ ষোলোতে উঠে যাবে ইতালিই।