ম্যাচের একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক বলেছিলেন, জীবনের সেরা খেলাটা খেলে উরুগুয়েকে হারাতে চান তিনি। দলটির কোচ গ্রেগ বেরহাল্টারও প্রায় একই মন্তব্য করেছিলেন। ৫০ বছর বয়সী এ কোচের মতে, কেবল মনোযোগ ধরে রেখে পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন করতে পারলেই জিতে যাবে যুক্তরাষ্ট্র।
কথা অনুযায়ী চেষ্টার কমতি রাখলেন না পুলিসিক-জিওভান্নি রেইনারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উরুগুয়ের সঙ্গে পেরে ওঠেনি যুক্তরাষ্ট্র। ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই জিতে শীর্ষে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে উরুগুয়ে।
তবে উরুগুয়েকে যেভাবে কাঁপিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তা দেখে দুশ্চিন্তা যদি কিছুটা কমে আর কী ব্রাজিলের! আগামীকাল সকালে নিজেদের গ্রুপে কলম্বিয়াকে হারাতে না পারলে কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের সামনেই পড়বে ব্রাজিল। মার্সেলো বিয়েলসার অধীনে উরুগুয়ে উড়ছে, তাই ব্রাজিলের সমর্থকদের দুশ্চিন্তা বেশি। তবে যুক্তরাষ্ট্র আজ দেখিয়ে দিয়েছে, উরুগুয়েকে তারাই ভোগাতে পারে। এমনকি উরুগুয়ের একমাত্র গোলটি নিয়েও বিতর্ক আছে।
আজ সকালের ম্যাচের শুরুতেই উরুগুয়ের সমর্থকদের বুকে কাঁপন ধরিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ডান উইং থেকে বিপজ্জনক ক্রস করেছিলেন পুলিসিক। কিন্তু সেটি গোলে পাঠানোর মতো কেউ ছিল না উরুগুয়ের বক্সে। এক মিনিট পরে আবারও আক্রমণে উঠেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের লেফট উইংগার জিওভান্নি রেইনা। এ যাত্রায় উরুগুয়ের জমাট রক্ষণে আটকে যান বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে খেলা এ তারকা। অবশ্য ফাকুন্দো পেলিস্ত্রি অনেকটা নিচে নেমে ডিফেন্স করেছিলেন।
ম্যাচের ১৩তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে বক্সের ভেতর পাস দিয়েছিলেন রেইনা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুন পা লাগানোর আগেই সেটি ঠেকিয়ে দেন উরুগুয়ে গোলকিপার সের্হিও রোচেত। ম্যাচের ২৯ মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন বালোগুন।
এর মধ্যে উরুগুয়ে কয়েকবার আক্রমণের চেষ্টা চালালেও সেগুলো গোছানো ছিল না। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে প্রায় গোল পেয়ে গিয়েছিল উরুগুয়ে। ডান প্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠেছিলেন দলটির রাইটব্যাক নাহিতান নেন্দেস। গোলকিপার এগিয়ে যাওয়ায় পোস্ট অনেকটা ফাঁকা পেয়েছিলেন। কিন্তু নেন্দেসের দুর্দল শট গোলকিপারকে ফাঁকি দিলেও দৌড়ে গিয়ে সেটি ক্লিয়ার করেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারব্যাক টিম রিম।
৫ মিনিট পরে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন দারউইন নুনিয়েস। বাঁ প্রান্ত থেকে ক্রিস্তিয়ান অলিভিয়েরার পাসে ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি লিভারপুল স্ট্রাইকার। বিরতির আগে দুদল আরও কয়েকটি আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পায়নি কেউ।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলক আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় উরুগুয়ে। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে নিকোলাস দে লা ক্রুসের ক্রস থেকে ঠিকঠাক হেড করতে পারেননি মাতিয়াস ভিনিয়া। দুমিনিট পরেই আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া করেন ফেদেরিকো ভালভের্দে। অলিভিয়েরার দারুণ পাসে পা লাগাতে পারেননি রেয়াল মাদ্রিদ তারকা। তবে ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ঠিকই গোল পেয়ে যান অলিভিয়েরা।
ফ্রি কিক থেকে রোনাল্দ আরাউহোর হেড ঠেকিয়ে দিলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্র গোলকিপার। ফিরতি বলে যুক্তরাষ্ট্রের জালে বল জড়ান অলিভিয়েরা।
ম্যাচে ফিরতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র শেষ দিকে চেষ্টা চালালেও গোলের দেখা পায়নি। এর মধ্যে একবার পুলিসিকের প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দিয়েছেন রদ্রিগো বেন্তাঙ্কুর।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে বলিভিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে ওঠা নিশ্চিত করেছে পানামা। তিন ম্যাচে ৬ পয়েন্ট দলটির।