গত ১১ মার্চ মিশরের প্রিমিয়ার লিগে তাঁর দল মডার্ন ফিউচারের সঙ্গে আল-ইত্তিহাদ আলেক্সান্দ্রিয়ার ম্যাচে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছিলেন তিনি। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে মাঠে লুটিয়ে পড়েন। এরপর যমে-মানুষে টানাটানির পর ফিরেও আসেন।
কিন্তু হার্ট অ্যাটাকের চার মাস পর গতকাল না ফেরার দেশে চলে গেছেন মিশরের ফুটবলার আহমেদ রিফাত। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৩১ বছর!
মিশর জাতীয় দলে সাতটি ম্যাচ খেলা রিফাত মার্চে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হওয়ার পর কোমায় ছিলেন ৯ দিন। মাসখানেক হাসপাতালে ছিলেন, সে সময়ে তাঁর বুকে পেইসমেকারও বসানো হয়। এরপর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে ছিলেন।
গত মাসে এক টিভি সাক্ষাৎকারে রিফাত বলেছিলেন, তিনি আগের চেয়ে বেশ ভালো আছেন, এবং শিগগিরই মাঠে ফিরতেও উন্মুখ হয়ে আছেন। কয়েকদিন আগেই তাঁর ক্লাবের পুরোনো সতীর্থদের সঙ্গে দেখাও করে এসেছেন।
তবে এরপরও তাঁর আবার শারীরিক অবস্থা কেন খারাপ হলো, কেন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে মাঝের এই মাস দুয়েকে কী হয়েছে, অন্য এক প্রতিবেদনকে সূত্র জানিয়ে সেসব লিখেছে ইজিপশিয়ান স্ট্রিটস নামের ওয়েবসাইট।
সেখানে লেখা, গত কিছুদিনে মিশরে আরও দুটি অস্ত্রোপচার হয়েছে রিফাতের, ইতালিতে আরও জটিল আরেকটি অস্ত্রোপচারের জন্য যাওয়ার কথা ছিল তাঁর।
জামাল শাবান নামের এক ‘কার্ডিওলজি কনসালট্যান্ট’কে উদ্ধৃত করে ইজিপশিয়ান স্ট্রিটসে লেখা, ‘করোনারি ধমনিতে ব্লকের কারণে তাঁর হার্টে মারাত্মক একটা ইলেকট্রিক্যাল ম্যালফাংশন দেখা দেয়। প্রথমবারে সেটা কাটিয়ে উঠেছিলেন তিনি, কিন্তু এরপর স্টেন্ট বসানোর পরও তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। সম্ভবত তাঁর হার্টে বড় আরেকটি ব্লক দেখা দিয়েছিল, এবং প্রচন্ড মাত্রার ইলেকট্রিক্যাল ম্যালফাংশনের কারণে হার্ট ফেইলিওর দেখা দিয়েছে।’
২০১৩ সালে উগান্ডার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে মিশরের জার্সিতে অভিষেক রিফাতের। সর্বশেষ ম্যাচটি খেলেছেন ২০২২ সালের জুনে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। মিশরের হয়ে সাত ম্যাচে ২ গোল করেছিলেন রিফাত। তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে মিশরের সুপারস্টার মো সালাহ লিখেছেন, ‘ওর পরিবার ও প্রিয় মানুষদের প্রতি আল্লাহ সদয় হোন।’