দুবছর আগে বেনফিকা থেকে লিভারপুল যখন ৭ কোটি ৫০ লাখ ইউরো মূল্যের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে আরও ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো দেওয়ার চুক্তিতে দারউইন নুনিয়েসকে কেনে, আলোচনায় আসে ইভানিলসনের নামও। পর্তুগিজ লিগে বেনফিকার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব পোর্তোতে তখন খেলছিলেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। ইংলিশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানায়, দারউইনের চেয়েও ভালো এই স্ট্রাইকারের দিকে নজর লিভারপুলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের।
শেষ পর্যন্ত ম্যান ইউনাইটেডে আর যাওয়া হয়নি ইভানিলসনের। পোর্তোতেই বেশ কিছু গোল করলেও ইউরোপিয়ান ফুটবলে বড় নাম হয়ে উঠতে পারেননি। ২৪ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান এবার ক্লাব বদলেছেন ঠিকই, তবে ইউরোপের বড় কোনো ক্লাবে নয়, গেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব বোর্নমাউথে – ক্লাবটির ইতিহাসের সবচেয়ে দামি দলবদল এটি। এর আগের রেকর্ডটি ছিল মিডফিল্ডার হেফারসন লেরমার, যাঁকে লেভান্তে থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে কিনেছিল বোর্নমাউথ।
তবে তাঁর দামটা চোখ কপালে তোলার মতো। পাউন্ডের হিসেবে ৪ কোটিরও বেশি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।
অবশ্য বাজার বিবেচনা করলে অঙ্কটাকে খুব বেশিও মনে হবে না। কদিন আগে ইংলিশ স্ট্রাইকার ডমিনিক সোলাঙ্কিকে ৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে টটেনহ্যামের কাছে বিক্রি করেছে বোর্নমাউথ। ইভানিলসনকে দিয়ে সে শূন্যস্থান পূরণ করার পাশাপাশি বাড়তি কিছু অর্থও তো থেকে গেল ক্লাবটির কাছে।
ইভানিলসন আলোচনায় এসেছিলেন সর্বশেষ কোপা আমেরিকায় ব্রাজিল দলে সুযোগ পেয়েও। ফর্ম নিয়ে খাবি খেতে থাকা গাব্রিয়েল জেসুস বা অধারাবাহিক হিশার্লিসনকে দলে না নিয়ে ব্রাজিল কোচ দরিফাউ টুর্নামেন্টে স্ট্রাইকার হিসেবে নিয়ে গিয়েছিলেন এন্দ্রিক আর ইভানিলসনকে।
ব্রাজিল মূলত ‘উইথড্রন স্ট্রাইকার’ হিসেবে রদ্রিগোকে রেখে কৌশল সাজানোয় এন্দ্রিক আর ইভানিলসনের কারওই সেভাবে সুযোগ মেলেনি। এর মধ্যেও এন্দ্রিক তা-ও কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়া ব্রাজিলের ৪ ম্যাচের সবগুলোতে মাঠে নেমে সব মিলিয়ে ১২৪ মিনিট খেলার সুযোগ পেয়েছেন, ইভানিলসন শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষে মিনিট তিনেক খেলার বাইরে বাকি সময় ব্রাজিল দলের সঙ্গে ঘুরেই কাটিয়েছেন।
ওই ম্যাচের আগে ব্রাজিলের জার্সিতে আর একটিই ম্যাচ খেলেছেন ইভানিলসন, গত জুনে মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে অভিষেকের দিনে। তবে ব্রাজিলের জার্সিতে এখনো নিজেকে চেনাতে না পারলেও পর্তুগিজ লিগে ইভানিলসনের সাফল্য ফেলনা নয়। ব্রাজিলের ফ্লুমিনেন্সের হয়ে পারফরম্যান্সের কারণে পোর্তোর নজরে পড়েছিলেন, ২০২০ সালে পর্তুগিজ ক্লাবটি তাঁকে প্রায় ৯০ লাখ ইউরোতে কিনে নেয়।
ট্রান্সফারমার্কেট ওয়েবসাইট জানাচ্ছে, এরপর থেকে এ পর্যন্ত পোর্তোর জার্সিতে ১৫৪ ম্যাচে ইভানিলসন গোল করেছেন ৬০টি, অ্যাসিস্ট ২১টি। গত মৌসুমে পর্তুগিজ লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে গোল করেছেন ১৭টি।