ক্লাব দখল নিয়ে মধ্যরাতে সাবেক অধিনায়কের বাড়িতে হামলা

গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম মামুনের চট্টগ্রামের কলাতলীর বাসায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানিয়ে মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন জাতীয় দলের আরেক ফুটবলার জাহিদ হাসান এমিলি।

এমিলির এ অভিযোগের ব্যাপারে ইন্ডিপেনডেন্ট ডিজিটাল থেকে মামুনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জানিয়েছেন, স্থানীয় ক্লাবের জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। মামুনুল চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ টেনে তাঁদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

ইন্ডিপেনডেন্টের সঙ্গে আলাপকালে হামলাকারীদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সাবেক অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমাদের আশে-পাশে অনেক জায়গা আছে। রেলের জায়গা… অবৈধ… সবগুলো দখলে। আমাদের এখানে ছোট একটা ক্লাব আছে, নাম “সিটিজেন ক্লাব”, যে ক্লাবে সামাজিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে খেলাধুলা, সবকিছু হয়। এ ক্লাবের আমি এক নম্বর সদস্য, আমার বাবা উপদেষ্টা। এ ক্লাব আমাদের এলাকাভিত্তিক।  এলাকার সবাই মিলে। দেশের এ খারাপ পরিস্থিতিতে যেহেতু এলাকার ছেলেরা ছিল না, একদিন এসে বাইরের গেটে দুজনে তালা মেরে দিয়েছে।’

ক্লাব দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হলে, মামুনুলের বাসায় কেন হামলা হলো- এমনটা জানতে চাইলে সাবেক অধিনায়ক বলেছেন, ‘তালা খোলা নিয়ে গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে একটা ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনার কারণে আমরা এলাকার সবাই মিলে থানায় জিডি করতে গেছি। ওরা আমাকে দেখেছে সেখানে। আমি ছাড়া তো কেউ সবল না। আমাকে যদি আঘাত করে, আমি পেছালে সবাই পেছাবে। এ কারণে তারা আমার বাসার নিচে এসে ভাঙচুর করেছে।’

হামলায় ক্ষয়ক্ষতির হিসেবে না গিয়ে হামলাকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন মামুনুল। ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের পরিচয়ও প্রকাশ করেছেন সাবেক এ মিডফিল্ডার, ‘ক্ষয়ক্ষতি তো বড় বিষয় নয়। আমি তিন জনের ছবি (ফেসবুকে) শেয়ার করেছি। আরেকজন আছে, তার ছবি আমার কাছে নাই। এদেরকে যদি ধরা হয়… এদের চারজনের মধ্যে দুই জন বহিরাগত, আর দুইজন এলাকার। একজন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সদরঘাট থানার সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রদের ওপর হামলার মামলা আছে তার নামে। আরেকজন হচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তার নামে এর আগেও রিপোর্ট হয়েছিল। আরেকজন হালিশহর যুবলীগ করেন। আর মূল দখলবাজ যিনি, তার নাম কামাল। এ চারজন মিলে হামলা করেছে।’

মামুনুল জানান, এ চারজনকে গ্রেপ্তার করা কেবল তাঁর দাবি নয়, বরং পুরো এলাকাবাসীই তেমনটা চান, ‘আমার কথা হচ্ছে, আমি ক্ষতিপূরণ তো চাচ্ছি না। এলাকাবাসীর সবার কথা হলো, এ চারজনকে আপনারা ধরেন। আর কামালের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা দায়ের করেন। তার সবই অবৈধ সম্পদ। আমার কাছে ভিডিও আছে। (হামলার সময় যে অস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হয়েছে) সে দেশী অস্ত্রগুলো তারা কোথায় পেল?’

এ হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন জাতীয় দলের হয়ে ৬২ ম্যাচ খেলা মামুনুল, ‘গতকাল বিকেলে একবার ঘটনা ঘটছে। আমরা থানায় থাকতেই রাতে এসে এ কাজটা (বাড়ি ভাঙচুর) করেছে। আমরা থানায় বসে ওসির জন্য বসে অপেক্ষা করছিলাম। ওসি গতকাল রাতে বলে গেছেন, আজকে মামলা নেবেন। আমার ফেসবুকে ভিডিও ছবি সবই আছে। ভিডিওতে যার হাতে দেশি অস্ত্র, সে হচ্ছে ইশতিয়াক, যুবলীগ। সাদা পাঞ্জাবী পড়া যিনি, সে হচ্ছে ফয়সাল, স্বেচ্ছাসেবক লীগ। আর পেছনে যে দুইটা, কিশোর গ্যাং। সবার কাছে অস্ত্র ছিল।’