বাংলাদেশ সময় আজ দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কলম্বিয়ার মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। একে তো চোটের কারণে লিওনেল মেসি নেই, আনহেল দি মারিয়াও অবসর নিয়েছেন – আর্জেন্টিনার কাজটা তাই এমনিতেই কঠিন। তবে মেসি-দি মারিয়াকে ছাড়াই কদিন আগে চিলিকে ঘরের মাঠে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। কিন্তু কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে আজ কি স্কালোনির মাথায় চিন্তার ভাঁজ বাড়ছে?
চিন্তা বেড়ে যাওয়ার কারণ দুটি – এক, কলম্বিয়ার রেকর্ড। দুই, আর্জেন্টিনার একাদশ গড়ায় ঝামেলা পাকাচ্ছে চোট। মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টার আর লেফট মিডফিল্ডার নিকোলাস গনসালেস চোটের সঙ্গে যুঝছেন। দুজন খেলতে পারবেন কি না, এ নিয়ে এখনো শঙ্কার কথা জানাচ্ছে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম তে ই সে স্পোর্ত।
কলম্বিয়ার রেকর্ড কেন ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে? কয়েকটি সংখ্যাই সে প্রমাণ দেবে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এবার লাতিন অঞ্চলে এখন পর্যন্ত কলম্বিয়াই একমাত্র দল যাদের এখনো হারের সঙ্গে পরিচয় হয়নি! আর্জেন্টিনা একটি ম্যাচ হেরেছে উরুগুয়ের মাঠে, উরুগুয়ে আবার হেরেছে ইকুয়েডরে গিয়ে, ব্রাজিল তো ৭ ম্যাচের তিনটিতেই হার দেখেছে, কিন্তু কলম্বিয়া ৭ ম্যাচে কোনো হার দেখেনি। অবশ্য এর ৪টিতেই ড্র করে ফেলায় তারা এই মুহূর্তে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে আর্জেন্টিনা (১৮ পয়েন্ট) আর উরুগুয়ের (১৪) চেয়ে পিছিয়ে পয়েন্ট তালিকার তিন নম্বরেই আছে।
ঘরের মাঠে কলম্বিয়ার রেকর্ড তো আরও দুর্দান্ত! নভেম্বরে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়েছে কলম্বিয়া, অক্টোবরে উরুগুয়ে তাদের সঙ্গে দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ড্র করতে পেরেছে একেবারে শেষ মুহূর্তে পাওয়া গোলে।
২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কলম্বিয়া জঘন্য খেলেছিল, সেবার বিশ্বকাপেই সুযোগ পায়নি, বাছাইপর্বের পর আর্জেন্টাইন কোচ নেস্তর লরেন্সোকে নিয়োগ দেয় কলম্বিয়ান ফেডারেশন। এরপরই দলটা এমনভাবে বদলে গেল যে, এবারের কোপা আমেরিকার ফাইনালে খেলার পথে ব্রাজিলের সঙ্গে ড্র আর উরুগুয়েকে হারিয়েছে। হামেস রদ্রিগেস আবার নাম্বার টেন ভূমিকায় নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন, লুইস দিয়াস-জন দুরানদের গতি প্রতিপক্ষ রক্ষণকে তটস্থ রাখছে, মাঝমাঠে হামেসের পেছনে রিচার্ড রিওস জোগাচ্ছেন সৃষ্টিশীলতা, জন আরিয়াস জোগান দিচ্ছেন গতি আর শক্তির।
সব মিলিয়ে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনার মাঠে ১-০ গোলে হারের পর থেকে কলম্বিয়ার টানা ২৮ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙেছে কোপার ফাইনালে আর্জেন্টিনারই কাছে ১-০ গোলে হেরে। ওই ২৮ ম্যাচের মধ্যে ঘরের মাঠে বাছাইপর্ব ও প্রীতি ম্যাচ মিলিয়ে কলম্বিয়া খেলেছিল ১৩ ম্যাচ, তাতে রেকর্ড? ১২ জয়, ড্র শুধু উরুগুয়ের বিপক্ষে অক্টোবরে।
সেই কলম্বিয়ার বিপক্ষে বারানকিয়ার ভ্যাপসা গরমে আজ নামার আগে নিজেদের নিয়েও অস্বস্তিতে আর্জেন্টিনা। আগের ম্যাচে গোল করা মিডফিল্ডার ম্যাকঅ্যালিস্টার না থাকা মানে মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ কিছুটা হারিয়ে ফেলার ভয় আর্জেন্টিনার। নিকোলাস গনসালেস প্রতিপক্ষ বক্সে ঢুকে তালগোল পাকিয়ে ফেললেও তাঁর বাইলাইন ধরে রাখার ক্ষমতা প্রতিপক্ষ রক্ষণ ও মাঝমাঠকে ‘স্পেস’ নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। দুজনই দলীয় অনুশীলনে ছিলেন না, আলাদা অনুশীলন করেছেন।
তাঁদের বদলের পাশাপাশি হামেস রদ্রিগেসকে আটকাতে আজ কৌশল বদলে ৪-৪-২ ছকে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে লিয়ান্দ্রো পারেদেস আর সৃষ্টিশীল মিডফিল্ডার হিসেবে জিওভানি লো সেলসোকে নামানোর কথা ভাবছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি – এমনটাই জানাচ্ছে তে ই সে স্পোর্ত। আবার এমনও হতে পারে, এ দুজনের কোনো একজনকে খেলিয়ে ৪-৩-৩ ছকে পাওলো দিবালাকে খেলানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আগের ম্যাচের দুই স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেস ও লওতারো মার্তিনেসের কোনো একজনকে খেলিয়ে উইংয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আলেহান্দ্রো গারনাচোর খেলানোর সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
পাশাপাশি উইংয়ে লুইস দিয়াস-জন দুরান-জন আরিয়াসদের গতির কথা মাথায় রেখে রক্ষণেও বদল আনতে পারে আর্জেন্টিনা। তে ই সে স্পোর্ত জানাচ্ছে, আগের ম্যাচে লেফটব্যাক হিসেবে খেলা লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে তাঁর সেন্টারব্যাক ভূমিকায় ফেরত পাঠানো হতে পারে, অর্থাৎ নিকোলাস ওতামেন্দিকে একাদশের বাইরে রেখে সেন্টারব্যাক জুটি হবে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো আর লিসান্দ্রোর। লেফটব্যাক হিসেবে ফিরতে পারেন মার্কোস আকুনিয়া। রাইটব্যাকেও কিছুটা আক্রমণাত্মক নাহুয়েল মলিনার বদলে কিছুটা রক্ষণাত্মক গনসালো মন্তিয়েলকেও নামানোর কথা ভাবছেন স্কালোনি।