‘নেইমার’ ভেবে তাঁর কাছে গোল চেয়েছিল ব্রাজিল, তিনি চাইলেন ক্ষমা

আরেকটি ম্যাচ, আরেকটি হার ব্রাজিলের। প্যারাগুয়ের মাঠে আজ ১-০ গোলে হেরে এসেছে ব্রাজিল, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে যা সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে তাদের চতুর্থ হার। এমন ব্রাজিলকে দেখার কথা কেউ কখনো কল্পনাও সম্ভবত করেননি।

তবু এমন ব্রাজিলকে দেখতে হচ্ছে কেন? চোটের কারণে দীর্ঘ সময় নেইমারের না থাকা একটা বড় কারণ। ব্রাজিল অনেকদিন ধরেই মনমতো একজন স্ট্রাইকার, দুজন ফুলব্যাক আর মিডফিল্ডার পাচ্ছে না। আর বিশ্বকাপ শেষে চিচিকে বিদায় দেওয়ার পর ব্রাজিল একের পর এক কোচ বদলে চলেছে, ফলে, পালাবদল শেষই হচ্ছে না!

এত সব বিশ্লেষণের মধ্যেও অবশ্য সমালোচনা তো থেমে নেই। সে সমালোচনার কেন্দ্রে সবচেয়ে বড় নাম সম্ভবত ভিনিসিয়ুস জুনিয়রই। রেয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে গত মৌসুমে দারুণ খেলেছেন, লিগ আর চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন, এবারের বালন দ’রের দৌড়েও তাই তাঁর নাম ওপরের দিকে। কিন্তু ব্রাজিলিয়ানরা আর ব্রাজিলের জার্সিতে ‘আমি চিনি গো ভিনি তোমারে’ বলার সুযোগ পাচ্ছেন কই!

নেইমার চোটে পড়ার পর তাঁকে ঘিরেই আশা দেখেছিল ব্রাজিল। ভিনি গোল করবেন, অ্যাসিস্ট করবেন, জাদু দেখাবেন – এতটুকুই তো আশা ছিল তাদের। কিন্তু কোপা আমেরিকায় ব্যর্থ ভিনি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও ব্যর্থ। সেপ্টেম্বরের দুই ম্যাচে গোল তো পানইনি, তাঁর খেলা দেখেও যেন বিরক্ত ব্রাজিলের সমর্থকেরা। ভিনি নিজেও সেটা বুঝতে পারছেন, আজ প্যারাগুয়ের কাছে হারের পর সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ভিনি।

‘কী পরিস্থিতিতে আছি সেটা আমরা বুঝতে পারছি। যেকোনো মূল্যে ব্রাজিলকে এই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে চাই। এখন সবাই বাড়ি ফিরব, ভালো খেলতে হলে এবং জিততে হলে কী করতে হবে সেটা বোঝার চেষ্টা করব’ – ম্যাচ শেষে বলেছেন ভিনিসিয়ুস।

রেয়াল মাদ্রিদে আলো ছড়ালেও ব্রাজিলে কেন পারছেন না, সে ব্যাখ্যা দিতে গিয়েই ক্ষমা চেয়েছেন ভিনি, ‘ইউরোপে ম্যাচে গতি আরও বেশি থাকে। মাঠের কারণে বল পায়ে আসে দ্রুত। (এখানে) ম্যাচ জেতার জন্য সেরা খেলাটা খেলতে আমাদের মানিয়ে নিতে হবে। জিততে পারলে মন স্থির হবে, তখন খেলাটাও অন্যরকম হবে। এই তো! আমি সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি। বুঝতে পারছি সময়টা খুব কঠিন যাচ্ছে, তবে আমরা উন্নতি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’