নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মেরেছে বাংলাদেশ

আফগানিস্তানকে হারাতে পারলে বাংলাদেশকে আর অন্য কোনো দিকে তাকাতে হতো না। গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে আগামী বছরের অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের মূলপর্বে যাওয়ার সম্ভাবনাটা অন্তত বেঁচে থাকত। নমপেনে আজ প্রথমার্ধ শেষে সে পথে কী দারুণভাবেই না চলছিল বাংলাদেশ!

যে আফগানিস্তান গ্রুপের অন্য সব দলকে গোলে ভাসিয়েছে, তাদের বিপক্ষেই বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ দল বিরতিতে এগিয়ে ছিল ২-১ গোলে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মারল বাংলাদেশ দল। দুই গোল খেয়ে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে গেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭। এতে বাছাইপর্ব থেকেই বাংলাদেশের বাদ পড়া নিশ্চিত হয়ে গেছে।

গ্রুপে এখনো ক্যাম্বোডিয়া-ফিলিপাইনের ম্যাচ বাকি আছে, সে ম্যাচে ফিলিপাইন ঠিক ১-০ গোলে জিতলেই কেবল বাংলাদেশের এখনো গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু সেটা হলেও বাংলাদেশের লাভ নেই। কারণ, দশ গ্রুপের রানার্সআপদের মধ্যে পাঁচটি সুযোগ পাবে আগামী বছরের এশিয়ান কাপে, ফিলিপাইন ঠিক ১-০ গোলে জিতলেও বাংলাদেশের পক্ষে গ্রুপ রানার্সআপ দশ দলের মধ্যে সেরা পাঁচে যাওয়ার সুযোগ নেই।

অথচ আজ ম্যাচের শুরুতে, এমনকি বিরতিতেও বাংলাদেশের সম্ভাবনা কী উজ্জ্বলই না ছিল! বাংলাদেশের আক্রমণে পুরোনো রোগটা চোখে পড়েছে, যা গোলের সুযোগ তৈরি করেছে বা যে আক্রমণগুলোতে গোল করেছে বাংলাদেশ – সবই সেট পিস থেকে। দুটি গোল এসেছে কর্নার থেকে, এর বাইরে দারুণ একটি সুযোগ বাংলাদেশ তৈরি করেছিল লম্বা থ্রো-ইন থেকে।

বয়সভিত্তিক পর্যায়ে সাফল্যের চেয়েও শেখাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে আক্রমণ কীভাবে হয়েছে সে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে হিসাব যখন শুধু গোলের, তাতে এটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল যে, গোল তো করেছিল বাংলাদেশ! ৬ মিনিটে কর্নার থেকে মিঠু চৌধুরীর গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ, দ্বিতীয় গোলটি প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে - কর্নার থেকেই ভিড়ের মধ্যে বল পেয়ে গোল করেন মোর্শেদ আলী।

তবে এর মধ্যে ২৯ মিনিটে গোলকিপারের ভুল আর আফগান খেলোয়াড়ের চোখধাঁধানো শটে সমতায় ফেরে আফগানিস্তান। ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ গোলকিপারের গোললাইন ছেড়ে সামনে এগিয়ে আসার প্রবণতা চোখে পড়ছিল, ২৯ মিনিটে মাঝমাঠের একটু ওপর থেকে আফগানিস্তানের ইয়াসির শাফি চোখধাঁধানো শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। শটটা যেকোনো পর্যায়ের ফুটবলেই দুর্দান্ত, অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ের কোনো খেলোয়াড়ের পা থেকে এত দূর থেকে এমন জোরাল শট বলেই সেটি আরও অসাধারণ হয়ে ওঠে।

ওই গোলের আগে-পরে দুই গোলে বিরতিতে তবু ২-১ গোলে এগিয়ে তো ছিল বাংলাদেশ! তখন সমীকরণটা ছিল, এই স্কোরলাইনই ধরে রাখতে পারলেও বাংলাদেশ গ্রুপে দ্বিতীয় হবে এবং সে ক্ষেত্রে দশ রানার্সআপ দলের মধ্যে সেরা পাঁচে থাকাও বাংলাদেশের প্রায় নিশ্চিত হয়ে যেত। ড্র করলেও হয়তো সে সম্ভাবনা কিছুটা থাকত!

কিন্তু সেটা আর হলে তো! ৫৫ মিনিটে যদিও কর্নার থেকে মানিকের হেড ফিরিয়ে বাংলাদেশকে গোলবঞ্চিত করেন আফগান গোলকিপার, এরপর বাংলাদেশের রক্ষণে হড়বড়ে ভাবের মাশুল দিতে হলো দ্বিতীয়ার্ধে।

 ৬৪ মিনিটে আফগানিস্তান সমতা ফেরায় মিলাদ নূরির গোলে। অথচ বাঁ প্রান্ত দিয়ে যখন আফগানিস্তান প্রথমে বক্সে ঢোকে, সেটিতে বাংলাদেশের রাইটব্যাকের জায়গা ছেড়ে বেরিয়ে অযথা ট্যাকল করতে যাওয়া এবং তাতে ব্যর্থ হওয়ার দায় আছে। নাওয়াদ মাহবুবি সে  যাত্রায় বক্সে ঢুকে কাটব্যাক করলেও বাংলাদেশ গোলকিপার সেটি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু এরপর নূরি যখন ঠান্ডা মাথার প্লেসিংয়ে বল জালে জড়াচ্ছেন, তাঁর সামনে দাঁড়ানো বাংলাদেশি ডিফেন্ডাররা সবাই ‘ফ্ল্যাট ফুটেড’ হয়ে ছিলেন।

৭০ মিনিটে কপাল পোড়া নিশ্চিত হলো বাংলাদেশের। আবারও বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা ঠিকমতো কাজটা করতে পারলেন না, সে সুযোগে আরাশ আহমাদির গোল – শেষ পর্যন্ত যা বিদায় করে দিয়েছে বাংলাদেশকে।