কোচের সঙ্গে ‘বেয়াদবি’ করায় ব্রাজিলিয়ান তারকাকে ক্লাব থেকে বাদ দেওয়া হলো

রেয়াল মাদ্রিদ কিংবদন্তি ও ব্রাজিলিয়ান ফুলব্যাক মার্সেলোর চুক্তি গতকাল বাতিল করেছে ফ্লুমিনেন্স।

ক্লাবটি গতকাল এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানিয়েছে, ‘ফ্লুমিনেন্স ও মার্সেলো ভিয়েরা চুক্তি বাতিল করার ব্যাপারে একমত হয়েছে।’ সে পোস্টে মার্সেলো কীভাবে ক্লাবের একাডেমি থেকে উঠে এসে বিশ্ব ফুটবলে তারকা হয়েছেন, মাদ্রিদ ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পর ২০২৩ সালে আবার ক্লাবে ফেরার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে চুক্তি শেষ হলেও ক্লাব ও মার্সেলোর সম্পর্ক সবসময় থাকবে। কদিন আগেই ক্লাবের অনুশীলন মাঠে মার্সেলোর নাম চিরস্থায়ী করা হয়েছিল। সেটাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘ফ্লুমিনেন্স মার্সেলোকে ধন্যবাদ দিতে চায় এবং সবসময় তাঁর চ্যালেঞ্জ জয়ে, তার সাফল্যে গর্বিত।’

বিবৃতিতে দুই পক্ষ মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে মার্সেলোকে তাড়িয়ে দিতে এক প্রকার বাধ্য হয়েছে ক্লাব। গত শুক্রবার ক্রুজেইরোর বিপক্ষে ম্যাচে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল ফ্লুমিনেন্স। এমন অবস্থায় বদলি নামানো হচ্ছিল মার্সেলোকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, এমন সময় মার্সেলোকে ট্যাকটিস বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন কোচ মানো মেনেজেস। কিন্তু মার্সেলো এ সময় অন্য দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বলেছেন। সঙ্গে সঙ্গে ক্ষেপে গিয়ে মার্সেলোকে টাচ থেকে ঠেলে সরিয়ে দেন মেনেজেস। এবং মার্সেলোর বদলে অন্য এক খেলোয়াড়কে মাঠে নামান।

২-২ গোলে শেষ হওয়া ম্যাচের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি মেনেজেস বলেছেন, ‘আমি মার্সেলোকে নামাচ্ছিলাম, কিন্তু সে এমন কিছু বলেছে যা আমার পছন্দ হয়নি এবং আমি আমার মত বদলেছি। কেনেডিকে নামিয়েছি।’ এক ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক দাবি করেছেন, মার্সেলোকে নাকি কোচকে বলেছেন, ‘লোক দেখানো আচরণ না করতে (ট্যাকটিক বোঝানোর ভান)।’

এমনিতেই আগামী ৩১ ডিসেম্বর চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল মার্সেলোর। কিন্তু মৌসুম শেষ হওয়ার ছয় ম্যাচ আগেই চুক্তি বাতিল করা হলো ক্যারিয়ারে ২৫টি শিরোপা জেতা ফুলব্যাকের।

এদিকে মার্সেলোকে বিদায় করে দেওয়ায় তাঁর ছোট ছেলের কী হবে, সে আলোচনা চলছে। লিয়াম বর্তমানে ফ্লুমিনেন্সের একাডেমিতেই খেলে। ওদিকে তাঁর বড় ছেলে এনজো মাদ্রিদ একাডেমিতে খেলছে এবং এরই মধ্যে স্পেনের বয়সভিত্তিক দলে অভিষেক হয়েছে তার।