আর্জেন্টিনায় মেসিকে সামলানো কোচের চোখে, ব্রাজিল আর ফ্রান্সের খেলোয়াড়েরাই সেরা  

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান কী? ব্যাখ্যায় যে কোনো আর্জেন্টিনা সমর্থক এখন সম্ভবত এটাই বলবেন যে, তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান এই যে, তিনি দায়িত্ব ছাড়ার পর লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন!

কার কথা বলা হচ্ছে, এরপর বুঝতে নিশ্চয়ই কষ্ট হয় না! হোর্হে সাম্পাওলি! আর্জেন্টিনা দলের দায়িত্বে ছিলেন বছরখানেক, এর মধ্যে তাঁর অধীনে আর্জেন্টিনার জঘন্য পারফরম্যান্স, রাশিয়া বিশ্বকাপে ভরাডুবি আর খেলোয়াড়দের তাঁর ব্যাপারে বিরক্তির কারণেই শিরোনামে এসেছেন বেশি।

সেই সাম্পাওলি গত কয়েক বছরে ফ্রান্স, ব্রাজিল আর স্পেনের কয়েকটি ক্লাব ঘুরে গত পরশু দায়িত্ব পেয়েছেন ফ্রান্সের ক্লাব রেনের। সেখানে দায়িত্ব নিয়েই এমন এক কথা বললেন, যা আর্জেন্টিনা ভক্তদের আরও তাতিয়ে দেবে। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের আঁতুড়ঘর হিসেবে ফ্রান্স আর ব্রাজিলের কথা বললেও মেসি-মারাদোনাদের দেশ আর্জেন্টিনার নামই বলেননি সাম্পাওলি!

‘সেরা খেলোয়াড়েরা সব ফ্রান্স আর ব্রাজিল থেকেই আসে। এখানে অনেক উঠতি প্রতিভা আছে’ – রেনেতে দায়িত্ব নিয়ে প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই বলেছেন সাম্পাওলি। যে বক্তব্যকে আর্জেন্টিনা আর মেসির প্রতি খোঁচা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অনেকের চোখে সর্বকালেরই সেরা মেসিকে, নিজের দেশকে আর্জেন্টিনাকে কোচিং করানোর পরও সেরা খেলোয়াড়দের জন্ম দেওয়া দেশের হিসাবে আর্জেন্টিনার নাম না বলার মানে তো তা-ই দাঁড়ায়!

খর্বকায় কিন্তু খ্যাপাটে এই কোচের অধীনে সেভিয়ার দারুণ ফুটবল দেখে আর্জেন্টিনাও তাঁর কাছে দারুণ কিছুর আশায়ই ছিল। কিন্তু হলো কী? নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এমনই অবস্থা করলেন সাম্পাওলি যে, শেষ পর্যন্ত ইকুয়েডরের মাঠে মেসির হ্যাটট্রিকে বাছাইপর্ব কোনোরকমে উতরানো আর্জেন্টিনা ২০১৮ বিশ্বকাপে ঘোল খেয়ে বাড়ি ফিরল শেষ ষোলো থেকে। বিশ্বকাপে গিয়েও দলের ফর্মেশন, খেলোয়াড় নিয়ে তাঁর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অবস্থা এমনই হয়েছিল যে, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে খেলোয়াড়েরা তাঁর মতকে অগ্রাহ্য করেছেন বলেও খবর আসে।

কোচিং ক্যারিয়ারে বড় সাফল্য বলতে আর্জেন্টিনাকেই হারিয়ে চিলিকে ২০১৫ কোপা আমেরিকা জিতিয়েছেন। তবে চিলির পর সেভিয়ায় তাঁর পাসিং ফুটবলের দর্শন অনেক প্রশংসিত হয়েছিল। তবে ডাগআউটে তাঁর অস্থিরতা আর কৌশল নিয়ে পাগলামি নিয়ে সংশয়ও শুরু থেকেই ছিল। আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নিয়েই বয়স্ক সব ডিফেন্ডার নিয়েও হাইলাইন ডিফেন্স খেলানোর কৌশলই আর্জেন্টিনার ভরাডুবির কারণ বলে মনে করেন অনেকে।

রাশিয়া বিশ্বকাপের পরই আর্জেন্টিনা তাঁকে বরখাস্ত করে। এরপর ব্রাজিলের সান্তোস ও আতলেতিকো মিনেইরো, ফ্রান্সের মার্শেই, স্পেনের সেভিয়ার পর আবার ব্রাজিলের ফ্লামেঙ্গোতে কোচিং করিয়েছেন। কোথাও বেশিদিন টিকতে পারেননি। এবার আবার সাম্পাওলি ফিরেছেন ফ্রান্সে। ফিরে বললেন, ‘লিগ আঁ আমার খুব ভালো লাগে। মার্শেই ছাড়ার পর এই লিগের খেলা দেখেছি। এখানে দলগুলো যেভাবে খেলে, যেভাবে দ্রুত রক্ষণ থেকে আক্রমণে ওঠে সেটা আমার ভালো লাগে।’

৬৪ বছর বয়সী সাম্পাওলি যে রেনের দায়িত্ব নিচ্ছেন, তারাও এবার ফরাসি লিগ আঁ-তে ধুঁকছে। ১৮ দলের লিগে তারা এই মুহূর্তে ১৩তম। তবে দায়িত্বে কেমন করবেন, তার পাশাপাশি সাম্পাওলিকে ঘিরে বড় প্রশ্ন, দায়িত্বটাতে কতদিন টিকবেন। শুধু চিলি জাতীয় দল (২০১২-২০১৬) ছাড়া কোথাও তিনি দুই মৌসুমের বেশি টেকেননি। এ নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নে সাম্পাওলির উত্তর, ‘বেশিরভাগ সময়ই এমন হয় যে ক্লাবগুলোর প্রত্যাশার চেয়ে আমার উচ্চাশা বেশি থাকে। তবে বুঝতে পারি মাঝে মাঝে আমার এই বেশি কিছু করতে চাওয়াও বাড়াবাড়ি হয়ে দাঁড়ায়, হয়তো (ক্লাবের) ক্ষমতার সীমাও ছাড়িয়ে যায়।’