লাতিন অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এখনো পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে আর্জেন্টিনা, তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলটার পারফরম্যান্স যে খুব একটা ভালো নয়, সেটা আর্জেন্টিনার সমর্থকমাত্রই মেনে নেবেন। গত শুক্রবার প্যারাগুয়ের কাছে হেরে যাওয়া এ নিয়ে সর্বশেষ দুই মাসে বাছাইপর্বে চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই ছিল জয়হীন – দুই হার, এক ড্র। একটি জয় শুধু বলিভিয়ার বিপক্ষে।
কোপা আমেরিকায় টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের পর থেকেই কিছুটা এলোমেলো লাগছে আর্জেন্টিনাকে। আর এভাবে একের পর এক ম্যাচে পথ হারানোর খেসারত বুঝি দিতে হচ্ছে মেসিদের। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম তে ই সে স্পোর্ত জানাচ্ছে, পেরুর বিপক্ষে আগামী বুধবার সকালের ম্যাচে না জিতলে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও হারাতে হবে আর্জেন্টিনাকে।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জেতার কয়েক মাস পর, ২০২৩ সালের এপ্রিলে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠে আর্জেন্টিনা। এরপর ১৮ মাস পেরিয়েও শীর্ষস্থান ধরেই রেখেছে তারা। কিন্তু একদিকে গত মাস দুয়েকে আর্জেন্টিনার একের পর এক ম্যাচে হোঁচট, অন্যদিকে ফ্রান্স আর স্পেনের মতো দলের দুর্দমনীয়ভাবে ছুটে চলা মিলিয়ে আর্জেন্টিনা এখন র্যাঙ্কিংশ্রেষ্ঠত্ব হারানোর শঙ্কায়।
তে ই সে স্পোর্ত জানাচ্ছে, প্যারাগুয়ের কাছে হারের পরের হিসাব অনুযায়ী, এই মুহূর্তে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা আর্জেন্টিনার রেটিং পয়েন্ট ১৮৬২.৩৬। গতকাল নেশনস লিগে ইতালিকে হারানো ফ্রান্স দুই নম্বরে, তাদের রেটিং পয়েন্ট ১৮৫৯.৭৯। আর সর্বশেষ ম্যাচে ডেনমার্ককে হারানো স্পেন ১৮৪৮.৭৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে আছে তিন নম্বরে।
এই অবস্থায় বাংলাদেশ সময় আগামী বুধবার সকাল ৬টায় পেরুর বিপক্ষে নিজেদের মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। তে ই সে স্পোর্ত লিখেছে, যদি আর্জেন্টিনা সে ম্যাচে ড্র করে, সে ক্ষেত্রে ১৮৫৪.৭৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে নেমে যাবে আর্জেন্টিনা। ফ্রান্সের আপাতত ম্যাচ নেই। আর যদি পেরুর কাছে হেরেই যায় আর্জেন্টিনা, সে ক্ষেত্রে ওদিকে স্পেন তাদের ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে হারালে, আর্জেন্টিনা তিনে নেমে যাবে। তখন আর্জেন্টিনার রেটিং পয়েন্ট হবে ১৮৪২.২৫।
পেরুর সঙ্গে না জিতলে নিশ্চিতভাবেই অন্তত চার মাসের জন্য র্যাঙ্কিংয়ের শ্রেষ্ঠত্ব হারাতে হবে আর্জেন্টিনাকে। কারণ, এই মাসের ম্যাচগুলোর পর আর্জেন্টিনার আবার ম্যাচ আছে মার্চে, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেই। তার আগে তাই র্যাঙ্কিংয়ে ওপরে ওঠার আর সুযোগ মেসিরা পাবেন না। তা মার্চের সে ম্যাচগুলোও কী – উরুগুয়ে আর ব্রাজিলের বিপক্ষে!
প্রসঙ্গত, ফিফা র্যাঙ্কিং নির্ধারণের ক্ষেত্রে ম্যাচের ফল, ম্যাচের গুরুত্ব, প্রতিপক্ষের র্যাঙ্কিং এসব বিবেচনায় নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক ফলগুলোই বেশি গুরুত্ব পায়, কারণ ভারযুক্ত গড় নির্ধারণের এই প্রক্রিয়ায় সর্বশেষ চার বছরে ম্যাচগুলোর ফলকে ক্রমানুযায়ী গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো বেশি গুরুত্ব পাবে, পুরোনো ম্যাচগুলো কম।