মোরসালিনের বিরুদ্ধে স্ত্রীর ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ, মায়ের দাবি জোর করে বিয়ে

জাতীয় ফুটবল দলের পরিচিত মুখদের একজন শেখ মোরসালিন। ২০২২ সালে ধূমকেতুর মতো হাজির হয়ে জাতীয় দলে শুধু জায়গা করে নেননি, মূল একাদশের নিয়মিত নাম হয়ে গেছেন।বাংলাদেশ এখন গোলের জন্য এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের দিকে তাকিয়ে থাকে। 

কাগজে-কলমে এই ফুটবলার ১৯ বছর বয়সী। দেশের আইন অনুযায়ী ২১ বছরের নিচে পুরুষের বিয়ে মানেই বাল্যবিবাহ। এখন শোনা যাচ্ছে মোরসালিন নাকি শুধু বিয়েই করেননি, স্ত্রীর গোপন ভিডিও ফাঁস করার হুমকিও দিচ্ছেন।

গতকাল ফেসবুকে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। সেঁজুতি বিনতে নামের একটি আইডি থেকে মোরসালিনের সঙ্গে একটি সেলফি পোস্ট করে লেখা হয়েছিল, ‘স্ত্রীকে হুমকি দেওয়া আর ব্ল্যাকমেইল করা কোনো রসিকতা না! সবারই অতীত আছে। তোমারও অতীত আছে।’

এরপর কী প্রসঙ্গে হুমকি বা ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে সে ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে, ‘সে আমার না নিয়ে আমার ভিডিও করেছে এবং বিভিন্ন মানুষকে দিয়েছে। আমি চুপ ছিলাম। আমি খুল খুললে নাকি তার কাছে এমন কিছু আছে যা আমি ভাবতে পারব না।’ 

এখন আর পোস্টটি দেখা যাচ্ছে না। তবে সেঁজুতি বিনতে রহমান নামের এই নারী আসলেই যে মোরসালিনের স্ত্রী তা স্বীকার করে নিয়েছেন তাঁর মা শেফালি বেগম। সংবাদমাধ্যম সকাল সন্ধ্যার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে শেফালি বেগম বলেছেন, তাঁর ছেলে বাজে চক্রে পড়েছেন।

এই সেই স্ক্রিনশট।

মোরসালিন বিয়ে করেছেন নাকি এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ‘আমার ছেলে বলেছে, “আমি একটা চক্রান্তের মধ্যে পড়েছি। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আম্মু, তুমি আমাকে বিশ্বাস”’

পরের প্রশ্নেই বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন তিনি, ‘আমার ছেলে বলেছে, যখন তাকে বিয়ে দেওয়া হয় তখন তার কিছু করার ছিল না। তাকে জোর করে ধরে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা শোনার পর আমি ছেলের ওপর রাগ করেছি। আর কিছু শুনতে চাইনি ওর মুখ থেকে। বলেছি, তুমি এত বড় হয়েছ, তোমাকে কেন ফাঁসিয়ে দেবে?’ 

কবে বিয়ে করেছেন মোরসালিন, সেটা নির্দিষ্ট করে জানেন না তাঁর মা, তবে সময়টা দেড় মাসের মতো বলে জানিয়েছেন তিনি। 

এর আগেও বিতর্কে জড়িয়েছে মোরসালিন।ক্লাবের হয়ে মালদ্বীপে খেলতে গিয়ে নিষিদ্ধ পানীয় নিয়ে ধরা পড়েছিলেন বসুন্ধরা কিংস সতীর্থদের সাথে। সবাইকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল লম্বা সময়ের জন্য। তবে বয়স বিবেচনায় লঘু শাস্তি পেয়েছিলেন মোরসালিন।

এখন জড়িয়েছেন নতুন বিতর্কে। স্ত্রীকে হুমকি বা ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ যদি প্রমাণিত নাও হয়, এই ঘটনায় তিনি বাল্যবিবাহ করেছেন বলে প্রমাণিত হবে। আর বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক কেউ বিয়ে করলে অনধিক ১ (এক) মাসের আটকাদেশ বা অনধিক ৫০,০০০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় ধরনের শাস্তিযোগ্য হবেন।